মুম্বই, ১১ মে (আইএএনএস) : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র মিতব্যয়িতা ও অর্থনৈতিক সংযমের আহ্বানকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। সোমবার বিরোধী দলগুলি কটাক্ষ করে দাবি করেছে, “নির্বাচন শেষ হতেই হঠাৎ ত্যাগের কথা মনে পড়েছে।”
বিরোধীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী যে সংযমের বার্তা দিয়েছেন, তা আগে কেন্দ্র সরকার ও বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেই কার্যকর করা হোক।
কংগ্রেস বিধায়ক দলনেতা বলেন, “পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন চলাকালীন যুদ্ধের কথা ভুলে গিয়েছিল সরকার। ভোট শেষ হতেই এখন সাধারণ মানুষকে ত্যাগ স্বীকারের কথা বলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শুধু পরামর্শ দেন, কিন্তু তার বোঝা বহন করতে হয় সাধারণ মানুষকেই।”
তিনি আরও বলেন, “২০০৮ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার সময়ও ভারত স্থিতিশীল ছিল। অথচ এখন সুপারপাওয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে মানুষকেই বলা হচ্ছে পেট্রোল কম ব্যবহার করতে, ডিজেল বাঁচাতে, সোনা না কিনতে, রান্নার তেল কম খরচ করতে। ২০১৪ সালে ‘অচ্ছে দিন’-এর স্বপ্ন দেখিয়ে ক্ষমতায় এসে আজ দেশের মানুষকেই কষ্ট সহ্য করতে বলা হচ্ছে।”
এনসিপি (শরদ পওয়ার গোষ্ঠী)-র বিধায়ক রোহিত পাওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান যুক্তিযুক্ত হতে পারে, তবে প্রথমে কেন্দ্র ও বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
তার কটাক্ষ, “নির্বাচনে জলের মতো টাকা খরচ, বড় ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ, দুর্নীতি, অযথা বিলাসিতা, দীর্ঘ গাড়ির বহর কিংবা বিদেশ সফরের নামে অপচয় আগে বন্ধ করা হোক। বিশেষ করে মহারাষ্ট্র সরকারকেই আগে এই বার্তা দেওয়া উচিত।”
তিনি আরও দাবি করেন, সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিদেশনীতি গড়ে তুললে দেশ সমস্যায় পড়ত না। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, “নির্বাচন শেষ হতেই কি পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী?”
প্রাক্তন শিবসেনা সাংসদ প্রিয়াঙ্কা সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “মন্ত্রী-নেতাদের দীর্ঘ গাড়ির বহরে নিষেধাজ্ঞা জারি হোক। এক বছরের জন্য বড় নির্বাচনী সভা বন্ধ করা হোক। জাঁকজমকপূর্ণ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানও বন্ধ করে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর বদলে ‘ওয়াচ ফ্রম হোম’ চালু করা হোক।”
মহারাষ্ট্র প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রশ্ন তোলেন, “সব ত্যাগ কি শুধুই সাধারণ মানুষ করবে আর প্রধানমন্ত্রী শুধু ক্যামেরার সামনে বক্তৃতা দেবেন?”
তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন বিজেপি শুধুমাত্র নির্বাচন, প্রচার, ধর্মীয় মেরুকরণ ও বিভাজনের রাজনীতিতে ব্যস্ত ছিল।
অন্যদিকে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পক্ষে সওয়াল করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের মধ্যে ভারতকে তাৎক্ষণিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে কেন্দ্র।
তার কথায়, “পড়শি দেশগুলি ইতিমধ্যেই তেল ও গ্যাসের ঘাটতি এবং মূল্যবৃদ্ধির মুখোমুখি। আমরা যদি এখনই সতর্ক না হই এবং সম্পদের সঠিক ব্যবহার না করি, তাহলে ভবিষ্যতে আমরাও সমস্যায় পড়তে পারি।”



















