চেন্নাই, ৯ মে (আইএএনএস): তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তামিলাগা ভেত্রি কাঝাগম-কে সমর্থন জানানো জোটসঙ্গীদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগম সভাপতি এম. কে. স্ট্যালিন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ডিএমকে রাজ্যে গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।
শনিবার দলীয় কর্মী ও রাজ্যের জনগণের উদ্দেশে প্রকাশিত এক বিস্তারিত বিবৃতিতে স্ট্যালিন বলেন, সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে কোনও দলই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
তিনি উল্লেখ করেন, ডিএমকে নেতৃত্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীল জোট ক্ষমতায় ফিরতে না পারলেও তামিলনাড়ুর জনগণের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছে।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে, ডিএমকে নতুন সরকার গঠনের পথে কোনও বাধা সৃষ্টি করবে না এবং বিধানসভায় গঠনমূলক বিরোধী হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে।
স্ট্যালিন জানান, তাঁর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকে দলীয় সদস্যরা প্রবীণ নেতা ও জোটসঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে দিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, যখন কোনও দল স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, তখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং পুনর্নির্বাচন এড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলগুলির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে স্ট্যালিন বলেন, আদর্শ ও নীতিগত ভিত্তিতে জোটে থেকে তারা টিভিকেকে সমর্থন করেছে, যা তিনি সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করছেন।
নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জোটের অংশ হিসেবে নির্বাচনে লড়া কংগ্রেস বিধায়করা ফল ঘোষণার পরে আন্না আরিভালয়ম-এ যাননি এবং পরে কংগ্রেস ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোট থেকে সরে আসে।
তবে কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ডিএমকের পাশে থাকার জন্য তিনি কমিউনিস্ট নেতা আর. শানমুগম ও এ. বীরাপান্ডিয়ান, ভিসিকে প্রধান থোল থিরুমাভালাভান, আইইউএমএল নেতা কাদের মহিদিন, এমডিএমকে সাধারণ সম্পাদক ভাইকো, ডিএমডিকে সাধারণ সম্পাদক প্রেমলতা বিজয়কান্ত, এমএমকে নেতা এম. এইচ. জওহিরুল্লাহ, কেএমডিকে প্রতিষ্ঠাতা ই. আর. ঈশ্বরন এবং মানবাধিকার মক্কল কাচ্চির নেতা তামিমুন আনসারি-কে ধন্যবাদ জানান।
স্ট্যালিন দাবি করেন, গত পাঁচ বছরে ডিএমকে সরকার একাধিক জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে তামিলনাড়ুর চেহারা বদলে দিয়েছে।
তিনি নতুন সরকারকে নারী, যুবক-যুবতী, পড়ুয়া, শিশু, সরকারি কর্মচারী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য চালু থাকা কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান, যাতে সাধারণ মানুষ নিরবচ্ছিন্নভাবে সেই সুবিধা পেতে পারেন।
বিবৃতির শেষে সম্ভাব্য নতুন টিভিকে সরকারকে শুভেচ্ছাও জানান এম. কে. স্ট্যালিন।



















