চিত্রদুর্গ, ৯ মে (আইএএনএস): কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বি. এস. ইয়েদিয়ুরাপ্পা-র জনজীবনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘অভিমানোৎসব’ অনুষ্ঠানে তাঁকে ভূয়সী প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় ইয়েদিয়ুরাপ্পার রাজনৈতিক জীবনকে “অঙ্গীকার, সংগ্রাম, ত্যাগ এবং মানুষের প্রতি নিষ্ঠার এক অনন্য কাহিনি” বলে উল্লেখ করেছেন।
চিত্রদুর্গে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো বার্তাটি পড়ে শোনান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। পরে সেই বার্তা একটি ফ্রেমে বাঁধিয়ে ইয়েদিয়ুরাপ্পার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় বলেন, “‘অভিমানোৎসব’-এর মাধ্যমে কর্নাটকে ইয়েদিয়ুরাপ্পাজির জনজীবনের অবদানকে সম্মান জানানো হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। তাঁর ৫০ বছরের পথচলা সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও মানুষের সেবার এক প্রেরণাদায়ক ইতিহাস।”
তিনি আরও বলেন, যদিও তিনি শারীরিকভাবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তাঁর মন পড়ে ছিল সেই সভাতেই, যেখানে এমন এক নেতাকে সম্মান জানানো হচ্ছে যিনি সারাজীবন জনসেবা ও দেশগঠনে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।
মোদী জানান, বহু বছর ধরে তিনি ইয়েদিয়ুরাপ্পার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন এবং তাঁকে তিনি স্নেহশীল, পরিশ্রমী ও অত্যন্ত বিনয়ী নেতা হিসেবে দেখেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সংগ্রামের সময় হোক বা সাফল্যের মুহূর্ত—সব সময়ই কর্নাটকের মানুষের প্রতি এবং দলের আদর্শের প্রতি তাঁর অটল নিষ্ঠা বজায় থেকেছে।”
ইয়েদিয়ুরাপ্পার রাজনৈতিক জীবনকে ভারতীয় গণতন্ত্রের শক্তির প্রতীক বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে কৃষক, শ্রমিক, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের পাশে থেকে ধাপে ধাপে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন তিনি।
বিজেপির কর্নাটকে উত্থানের ক্ষেত্রেও ইয়েদিয়ুরাপ্পার ভূমিকার বিশেষ প্রশংসা করেন মোদী। তিনি বলেন, “দলের কঠিন সময়ে, যখন বিজেপির উপস্থিতি সীমিত ছিল, তখন তিনি বুথস্তরে কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছিলেন।”
মোদীর মতে, ইয়েদিয়ুরাপ্পাই প্রমাণ করেছিলেন যে বিজেপি কেবল নির্দিষ্ট অঞ্চলের দল নয়, বরং দেশের প্রতিটি মানুষের দল।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর মুখ্যমন্ত্রীত্বের সময় কৃষি, সেচ, গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষককল্যাণে নেওয়া উদ্যোগগুলিরও প্রশংসা করেন। আলাদা কৃষি বাজেট পেশের উদ্যোগকে তিনি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।
এছাড়াও শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, আবাসন এবং মহিলাদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও ইয়েদিয়ুরাপ্পার কাজের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “এত উচ্চপদে থেকেও ইয়েদিয়ুরাপ্পাজি কখনও সাধারণ কর্মী বা মানুষের থেকে দূরে সরে যাননি। তাঁর সরলতা ও সহজপ্রাপ্যতাই তাঁকে মানুষের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করেছে।”
শেষে প্রধানমন্ত্রী ইয়েদিয়ুরাপ্পার সুস্থ ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বলেন, ভবিষ্যতেও তিনি যেন দলীয় কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের পথপ্রদর্শক হয়ে থাকেন।



















