আগরতলা, ৭ মে : মন্ত্রী সান্তনা চাকমা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পানীয় জল ও রাস্তার সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়িত না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মাছমারা এলাকার ভুবনপুর গ্রামের বাসিন্দারা। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে পানীয় জল ও রাস্তার বেহাল অবস্থার মধ্যে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
পেঁচারথল ব্লকের মাছমারা এডিসি ভিলেজের অন্তর্গত ভুবনপুর গ্রামে প্রায় ১৫ বছর আগে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি পানীয় জলের ট্যাংকি। ট্যাংকি রয়েছে, পাইপলাইনও বসানো হয়েছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই লাইনে জল পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। ফলে বর্ষাকালে ছড়ার জল ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। আর গ্রীষ্মের সময় ২ থেকে ৩ কিলোমিটার দূর থেকে মাথায় কলসি করে জল আনতে হয়।
গ্রামের মহিলাদের অভিযোগ, প্রতিদিন জল সংগ্রহ করতেই দিনের বড় সময় নষ্ট হয়ে যায়। দূষিত জল ব্যবহারের কারণে শিশুদের মধ্যে পেটের অসুখসহ বিভিন্ন রোগ বাড়ছে বলেও জানান তারা।
এদিকে গ্রামের মূল সড়কের অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা কাদায় ভরে যায়। রোগী বা গর্ভবতী মহিলাদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অনেক সময় কাঁধে করেই রোগী বহন করতে হচ্ছে বলে জানান এলাকাবাসী।
ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা বলেন, ভোটের সময় মন্ত্রী সান্তনা চাকমা গ্রামে এসে জল ও রাস্তার সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও বাস্তবে কোনও কাজ হয়নি। বারবার পঞ্চায়েত, বিডিও অফিস এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও শুধু আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি বলে অভিযোগ তাদের।
বর্তমানে ভুবনপুর গ্রামে প্রায় ৫০টি পরিবারের বসবাস। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগেও মৌলিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত থাকার ক্ষোভ উগরে দিয়ে গ্রামবাসীরা বলেন, “আজও আমাদের কলসি মাথায় নিয়ে জল আনতে হয়। রাস্তার অভাবে স্কুল পড়ুয়ারাও ঠিকমতো যাতায়াত করতে পারে না। আমরা আর কতদিন অপেক্ষা করব?”
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ভুবনপুর গ্রামে পানীয় জলের স্থায়ী ব্যবস্থা এবং রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করতে হবে। অন্যথায় আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। এখন দেখার, প্রশাসন কবে নজর দেয় দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত এই গ্রামের দিকে।



















