জয়পুর, ৭ মে (আইএএনএস): অপারেশন সিঁদুরের প্রথম বর্ষপূর্তিতে বৃহস্পতিবার জয়পুরের সাউথ ওয়েস্টার্ন কমান্ডে এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের তিন বাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন। তাঁদের বক্তব্য, এই অভিযান কোনও সমাপ্তি নয়, বরং ভারতের নতুন কৌশলগত সংকল্পের সূচনা।
সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল জুবিল এ. মিনওয়ালা, লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই, এয়ার মার্শাল অবধেশ কুমার ভারতী এবং ভাইস অ্যাডমিরাল এ. এন. প্রমোদ। পরে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এরও।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই বলেন, “অপারেশন সিঁদুর স্পষ্ট করে দিয়েছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াই অব্যাহত থাকবে।” তিনি দাবি করেন, বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত প্রায় ৬৫ শতাংশ অস্ত্র দেশেই তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, “অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের ১০০-র বেশি সেনা নিহত হয়েছে এবং ভারতের নিশানায় থাকা ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে ১০০-র বেশি জঙ্গি খতম হয়েছে।” পাকিস্তানের প্রচারযুদ্ধ নিয়েও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “যদি পাকিস্তান প্রচারের বদলে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বেশি গুরুত্ব দিত, তাহলে হয়তো তাদের পারফরম্যান্স আরও ভালো হত।”
রাজীব ঘাইয়ের বক্তব্য, “অপারেশন সিঁদুর দেখিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানে কোনও জঙ্গি ঘাঁটিই আর নিরাপদ নয়। ভারত তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।”
তিনি জানান, ২০২৫ সালের ৭ মে অভিযানের সময় ভারতীয় সেনা সাতটি এবং বায়ুসেনা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “ভারী ক্ষতির পর পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির আবেদন জানায়। আমরা পিছিয়ে এসেছি, কিন্তু তা দুর্বলতা নয়।”
তিনি কবি দুষ্যন্ত কুমার-এর লাইন উদ্ধৃত করে বলেন, “শুধু হইচই করা আমার উদ্দেশ্য নয়, পরিস্থিতি বদলানোই লক্ষ্য।”
এয়ার মার্শাল অবধেশ কুমার ভারতী পাহেলগাঁও জঙ্গি হামলাকে “দেশের জন্য গভীর বেদনাদায়ক ঘটনা” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, “যখন শান্তির ইচ্ছাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা হয়, তখন আমাদের হাতে পদক্ষেপ করা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না।”
তিনি স্পষ্ট করেন, ভারতের লড়াই ছিল শুধুমাত্র জঙ্গি ও তাদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে। “আমরা এমনভাবে অভিযান চালিয়েছি যাতে কোনও সাধারণ নাগরিকের ক্ষতি না হয়,” বলেন তিনি। তাঁর দাবি, অপারেশনে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে, ১১টি এয়ারফিল্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৩টি বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে।
ভাইস অ্যাডমিরাল এ.এন. প্রমোদ বলেন, “এই অভিযান যৌথতা, আত্মনির্ভরতা এবং দেশীয় প্রযুক্তির শক্তিকে তুলে ধরেছে।” তিনি জানান, তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণই অভিযানের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল।
তিনি আরও বলেন, “ভারতীয় নৌসেনা, সেনাবাহিনী ও বায়ুসেনা যে কোনও সময়, যে কোনও জায়গায়, নির্ভুলভাবে গভীর আঘাত হানতে সক্ষম।”
লেফটেন্যান্ট জেনারেল জুবিল এ. মিনওয়ালা বলেন, “চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) পদ সৃষ্টিসহ সরকারের একাধিক সংস্কারের ফলেই অপারেশন সিঁদুর সফল হয়েছে।” তিনি জানান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো একাধিক হুমকির মোকাবিলায় সমন্বিত প্রতিরক্ষা কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।



















