নন্দীগ্রাম, ৬ মে (আইএএনএস): শুভেন্দু অধিকারী বুধবার দাবি করেছেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) সরকার তাদের পূর্বসূরি সিপিএম সরকারের থেকেও “খারাপ”।
নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হওয়া অধিকারী এদিন নন্দীগ্রামে এসে ভোটারদের ধন্যবাদ জানান। তিনি আইএএনএস-কে বলেন, “আমি এখানে কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছি। মানুষ আমাকে দু’বার সাংসদ এবং তিনবার বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত করেছেন।”
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়েছে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টিতে সীমাবদ্ধ হয়েছে।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে উন্নয়ন ও অগ্রগতির মাধ্যমে। গতবার নন্দীগ্রামের মানুষ আমাকে মুখ্যমন্ত্রীকে পরাজিত করতে সাহায্য করেছিলেন। এখানকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আজীবন থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “২০১১ সালে সিপিএমকে সরানো প্রয়োজন ছিল, কিন্তু আমরা ভাবিনি যে তার থেকেও খারাপ একটি পরিবারতান্ত্রিক সরকার আসবে। তাই এবার প্রকৃত পরিবর্তন এসেছে। একটি জাতীয়তাবাদী ডাবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, যা উন্নয়ন, অগ্রগতি ও বৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।”
আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে অধিকারী বলেন, “যারা দুষ্কৃতী ও গুন্ডামি করবে, তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে না।”
তিনি জানান, আপাতত দু’দিনের জন্য বিজয় মিছিল স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগ করে তিনি বলেন, “আমাদের দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে ৫০০-র বেশি এফআইআর করা হয়েছে এবং ৪০০ কর্মীকে জেলে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের উপর ব্যাপক অত্যাচার হয়েছে। আমি সকলকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছি। আইন অনুযায়ী যা করার, নতুন বিজেপি সরকারই করবে।”
তিনি আরও বলেন, বিজেপি সরকার গঠনের পর পুলিশের অনুমতি নিয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
অধিকারী আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকারের সম্মিলিত উদ্যোগে এক মাসের মধ্যেই বাংলার মানুষ পরিবর্তন অনুভব করবেন।
তিনি জানান, বিজেপির বিপুল জয়ের পর দলের লক্ষ্য হবে নরেন্দ্র মোদি-র দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়ন করা।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করা হবে এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে তাঁরা যে কোনও সময় নিশ্চিন্তে বাড়ির বাইরে বেরোতে পারেন।”



















