বেঙ্গালুরু, ৫ মে (আইএএনএস): কর্নাটকের শৃঙ্গেরি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট পুনর্গণনা ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক টি.ডি. রাজেগৌড়া অভিযোগ করেছেন, ভোট পুনর্গণনার প্রক্রিয়ায় তাঁর সঙ্গে গুরুতর অন্যায় করা হয়েছে। তাঁর দাবি, তিনি মূলত ২০১ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, শৃঙ্গেরি কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালটের পুনর্গণনার পর বিজেপি প্রার্থী ডি.এন. জীবরাজ জয়ী ঘোষণা হন, যা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজেগৌড়া বলেন, এই ফলাফল “অসাংবিধানিক” এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট বাতিল করে ফলাফল বদলানো হয়েছে। তাঁর কথায়, “এটা শুধু ভোট চুরি নয়, এটা ভোট ডাকাতি।”
তিনি জানান, এই বিষয়ে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং নির্বাচন কমিশন ও বিচারব্যবস্থার উপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। রাজেগৌড়া বলেন, সাধারণ পুনর্গণনা হলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হতেন না, কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হওয়ায় তিনি আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন।
তাঁর দাবি, একাধিক প্রার্থী ও এজেন্টের উপস্থিতিতে ভোটগণনা সম্পন্ন হয়েছিল এবং তাঁর জয়ের ঘোষণাপত্রে সব দলের প্রতিনিধিদের স্বাক্ষরও ছিল।
এই ঘটনায় ন্যায়বিচার না মিললে তা ভবিষ্যতে সারা দেশে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিপজ্জনক নজির তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
রাজেগৌড়া আরও অভিযোগ করেন, ডি.এন. জীবরাজ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অতীতে জমি বরাদ্দ সংক্রান্ত নথি জালিয়াতির অভিযোগে মামলা রয়েছে এবং সরকারি নথি পরিবর্তনের প্রবণতার ইতিহাস রয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৩ সালে ভোটগণনার পুরো প্রক্রিয়া প্রার্থীদের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হয়েছিল এবং প্রতিটি রাউন্ডের ফলাফল নথিভুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করে শংসাপত্র দেয়। তবে এক মাসের মধ্যে নির্বাচনী পিটিশন দায়ের হয় এবং আদালত কেবল বাতিল হওয়া পোস্টাল ব্যালট পুনর্গণনার নির্দেশ দেয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।


















