তিরুবনন্তপুরম, ৫ মে (আইএএনএস): বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয় পেয়ে বামফ্রন্টকে পরাজিত করার পর কেরলে কংগ্রেস এখন এক নজিরবিহীন নেতৃত্ব সংকট ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে। যে প্রক্রিয়া আগে সাধারণত ঐকমত্যের মাধ্যমে সম্পন্ন হত, এবার তা পরিণত হয়েছে উচ্চ-ঝুঁকির ক্ষমতার লড়াইয়ে।
অতীতে কে. করুণাকরণ, এ.কে. অ্যান্টনি এবং ওমেন চন্ডি-র মতো প্রবীণ নেতাদের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ প্রায় সুগম ছিল। করুণাকরণ চারবার, অ্যান্টনি তিনবার এবং উম্মেন চ্যান্ডি দু’বার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঐকমত্যই ছিল প্রধান ভিত্তি।
তবে এবার সেই ধারা ভেঙে গেছে। এক দশক পর ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের পর কংগ্রেসের অন্দরে একাধিক শক্তিকেন্দ্র নিজেদের দাবি জোরালো করছে, যা নেতৃত্ব নির্বাচনকে জটিল করে তুলেছে।
বর্তমান পরিস্থিতির কেন্দ্রে রয়েছেন কে. সি. ভেনুগোপাল, যার আকস্মিকভাবে এই দৌড়ে প্রবেশ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ এই নেতার নাম সামনে আসায় দলের রাজ্য শাখায় বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে এবং হাইকম্যান্ডের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে। সেখানে পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যারা কেরলে গিয়ে ৬৩ জন কংগ্রেস বিধায়কের মতামত জানবেন এবং জোটসঙ্গীদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন।
এবারের প্রক্রিয়া আগের মতো নীরবে নয়, বরং প্রকাশ্যেই চলছে। বিভিন্ন শিবির তৈরি হচ্ছে, রাজনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে, এবং সিনিয়রিটি, গ্রহণযোগ্যতা ও সংখ্যার সমীকরণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের কাছে চ্যালেঞ্জ শুধু মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নয়, বরং এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাতে জোট সরকার আরও শক্তিশালী হয় এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব না বাড়ে।
কেরলের দ্রুত পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই নেতৃত্বের লড়াই কংগ্রেসের ক্ষমতায় ফেরার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।


















