পাটনা, ২৭ এপ্রিল (আইএএনএস): বিহারে শাসক এনডিএ জোটের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-র জাতীয় কর্মসমিতির সভাপতি তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব। তিনি অভিযোগ করেছেন, গত বছরের বিধানসভা নির্বাচনের সময় মহিলাদের ভুয়ো প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে তেজস্বী যাদব দাবি করেন, ভোটের আগে মহিলাদের— বিশেষ করে ‘জীবিকা দিদি’ নামে পরিচিত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের— ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১০,০০০ টাকা করে জমা দিয়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটারদের প্রলোভন দেখানোর পাশাপাশি ভয়ও দেখানো হয়েছিল। মহিলাদের বলা হয়েছিল, ভোটকেন্দ্রে নজরদারি চলছে এবং নির্দিষ্ট দলকে ভোট না দিলে সেই টাকা তুলে নেওয়া হবে।
তেজস্বীর দাবি, নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, ধাপে ধাপে মোট ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। কিন্তু নির্বাচনের ছ’মাস পরেও সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি।
তিনি বলেন, “নির্বাচনের পর ১৮ লক্ষ মহিলার কেউই প্রথম কিস্তি পাননি, আবার ১.৮১ কোটি ‘জীবিকা দিদি’ ও অন্যান্য মহিলারাও দ্বিতীয় কিস্তি পাননি— যদিও নির্বাচনের সময় স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল মোট ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার।”
রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তেজস্বী অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক স্বার্থে নেওয়া আর্থিক সিদ্ধান্তের ফলে বিহারের কোষাগারে চাপ বেড়েছে।
তিনি শাসক জোটকে অভিযুক্ত করে বলেন, শাসন ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার চেয়ে নির্বাচনী লাভকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তেজস্বীর কথায়, “বিহারের সীমিত সম্পদের কথা জেনেও শুধুমাত্র ভোট পাওয়ার জন্য নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে প্রায় ৪১,০০০ কোটি টাকা নগদ বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কিন্তু ক্ষমতার লোভে রাজ্যের স্বার্থকে উপেক্ষা করা হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিক ও ‘দুর্বল’ রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিজেদের স্বার্থে বিহারের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছেন।


















