ত্রিশূর, ২২ এপ্রিল (আইএএনএস): কেরলের ত্রিশূরের মুন্ডাথিক্কোডে ভয়াবহ আতশবাজি বিস্ফোরণ-কাণ্ডে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে মৃত ও আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ প্যাকেজও ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজ্যের রাজস্বমন্ত্রী কে. রাজন জানান, ঘটনাটিকে ‘রাজ্য-নির্দিষ্ট বিপর্যয়’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
এই তদন্তের নেতৃত্ব দেবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সি.এন. রামচন্দ্রন নাইয়ার।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজন জানান, মৃতদের পরিবারকে মোট ১৪ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ লক্ষ টাকা এবং স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফান্ড (এসডিআরএফ) থেকে ৪ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। আহতদের প্রত্যেককে ২ লক্ষ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার একটি আতশবাজি গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা গোটা রাজ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে। এখনও পর্যন্ত ৯টি মৃতদেহ মর্গে আনা হয়েছে, যার মধ্যে ৭ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে।
শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ত্রিশূরের পাঝায়ান্নুরের সুদর্শন (৫৪), পালাক্কাড়ের কাচুরের বাসুদেবন (৫৪), ত্রিশূরের কুন্ডান্নুরের সুবিন (৪০), এডাপ্পালের মানিকন্দন (৬০), মালাপ্পুরমের কুলাথুরের সুব্রহ্মণ্যন (৫০), চিরাক্কালের বিজিশ এবং কোট্টাপ্পুরামের মানিকন্দন (৩৩), যিনি আতশবাজি ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, স্থানীয় বাসিন্দা ছিলেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃতদেহ ছাড়াও ২৬টি মানবদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে, যা শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। বাকি মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় আতশবাজি সংরক্ষণ ও ব্যবহারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিচার বিভাগীয় তদন্তে বিস্ফোরণের কারণ, দায় নির্ধারণ এবং নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে প্রশাসন উদ্ধারকাজ, মৃতদের পরিচয় নির্ধারণ এবং ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এটিকে কেরলের অন্যতম ভয়াবহ আতশবাজি দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


















