নয়াদিল্লি, ২১ এপ্রিল (আইএএনএস): দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাওবাদী মতাদর্শ ছড়ানোর লক্ষ্যে সহানুভূতিশীল নেটওয়ার্ক সক্রিয় হতে পারে—এমন আশঙ্কায় সতর্কবার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। পুনের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি পুনেতে মহারাষ্ট্র সমাজকল্যাণ দফতরের একটি হোস্টেলের কয়েকজন ছাত্র নিহত মাওবাদী কমান্ডার মাদভী হিদমা-কে প্রশংসা করে এমন গানে নাচেন। এই ঘটনাকে ‘চোখ খুলে দেওয়া’ বলে মনে করছে এজেন্সিগুলি।
তদন্তে জানা গেছে, ওই ছাত্রদের মধ্যে পাঁচজন গাডচিরোলি এবং একজন চন্দ্রপুর থেকে এসেছে। গড়চিরোলি ইতিমধ্যেই ‘নকশালমুক্ত’ ঘোষণা করা হলেও সেখানে এখনও কিছু মতাদর্শগতভাবে প্রভাবিত উপাদান সক্রিয় রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, শহুরে কিছু বুদ্ধিজীবী দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখে সরকারের সমালোচনা করলেও আদিবাসীদের প্রকৃত সমস্যার কথা তুলে ধরেন না। বরং তারা এমন এক মতাদর্শ আঁকড়ে ধরেন, যা বিশ্ব অনেক আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে বলে দাবি সরকারি মহলের।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, মাওবাদী কার্যকলাপের সশস্ত্র পর্ব অনেকটাই শেষ হলেও এখন মতাদর্শগত লড়াইয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। শহরাঞ্চলে থাকা এই নেটওয়ার্কগুলি আদিবাসী ইস্যু সামনে এনে আবেগ উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং ধীরে ধীরে মতাদর্শ ছড়ানোর কৌশল নিচ্ছে।
একাধিক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রথম পর্যায়ে এই গোষ্ঠীগুলি বিভিন্ন আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে নিহত মাওবাদীদের প্রতি সহানুভূতি তৈরি করার চেষ্টা করবে। পুনের ঘটনাটিও সেই ধরনের একটি প্রচেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে বিশেষভাবে টার্গেট করা হতে পারে। পোস্টার লাগানো, সেমিনার আয়োজন এবং বিভিন্ন ইস্যুর আড়ালে ধীরে ধীরে মতাদর্শ প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে আশঙ্কা। সরাসরি মাওবাদ সমর্থনে কর্মসূচি না করে ‘সফট পুশ’-এর মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলবে।
কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই বিষয়টি নজরে নিয়ে পাল্টা বয়ান তৈরির উপর জোর দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মাওবাদী আন্দোলনের নেতিবাচক দিক সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি গ্রামীণ ও আদিবাসী এলাকায় সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের কথাও তুলে ধরা হচ্ছে।
সরকারি আধিকারিকদের মতে, বন্দুকের লড়াই অনেকটাই শেষ হলেও এখন মূল লড়াই মতাদর্শের বিরুদ্ধে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে নিয়মিত সচেতনতা কর্মসূচি ও আলোচনার মাধ্যমে এই প্রভাব প্রতিরোধ করার চেষ্টা চলছে।


















