আগরতলা, ১৮ এপ্রিল: ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদ (এডিসি) নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল করতে না পারায় আত্মসমীক্ষার পথে হাঁটার কথা জানাল বামফ্রন্ট। দলীয় বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভোটের হার বাড়াতে ব্যর্থ হয়েছে তারা এবং সেই কারণেই দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদ (এডিসি) নির্বাচনের ফলাফলকে ঘিরে শাসক বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে দাবি করল বামফ্রন্ট। দলীয় বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উপজাতি এলাকার বৃহত্তম অংশের ভোটাররা বিজেপি সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বামফ্রন্টের মতে, দুর্নীতি, উন্নয়নে অনাগ্রহ এবং জনবিরোধী নীতির কারণেই এই ফলাফল হয়েছে। পাশাপাশি তারা অভিযোগ করেছে, গত পাঁচ বছরে উপজাতি এলাকায় প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভাঙন, অর্থনৈতিক অনিয়ম, কাজের অভাব, বেহাল রাস্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার ঘাটতি—এসব সমস্যা মানুষের মধ্যে গভীর ক্ষোভ তৈরি করেছে।
তবে একই সঙ্গে বামফ্রন্টের বক্তব্য, এই সমস্ত বাস্তব সমস্যার পূর্ণ প্রতিফলন নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়নি। তাদের দাবি, মানুষের জীবন-জীবিকার মূল সমস্যাগুলি আড়াল করে আবেগের রাজনীতি সামনে আনা হয়েছে, যার প্রভাব ভোটের ফলাফলে পড়েছে।
দলটি আরও অভিযোগ করেছে, নির্বাচনে অর্থ ও উপঢৌকনের ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে। যদিও সেই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বিজেপি পরাস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি তিপ্রা মথার বিরুদ্ধেও অর্থশক্তি প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে বামফ্রন্ট।
নিজেদের ফলাফল প্রসঙ্গে বামফ্রন্ট স্বীকার করেছে, তারা ভোটের হার বাড়াতে সক্ষম হয়নি। এজন্য আত্মসমীক্ষার মাধ্যমে দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে জনজীবনের সমস্যাগুলি নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার কথাও জানানো হয়েছে।
এদিকে, নির্বাচনে ভয়ভীতি ও প্রলোভন উপেক্ষা করে যারা বামফ্রন্টকে সমর্থন করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে। একই সঙ্গে রাজ্যজুড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।


















