নয়াদিল্লি, ১৭ এপ্রিল (আইএএনএস): মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে আম আদমি পার্টি (আপ)-র এক নেতার বাড়িতে দ্বিতীয়বার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর হানাকে ঘিরে সরব হলেন দলের জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই সব অভিযানে আদৌ কত ‘কালো টাকা’ উদ্ধার হয়েছে।
সাবেক দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’-এ লেখেন, “মাত্র তিন দিনের মধ্যে আপ নেতার বাড়িতে এটি দ্বিতীয় ইডি হানা। এতদিনে আপ নেতাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযানে কত ‘কালো টাকা’ উদ্ধার হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কি তা জানাবেন? একটি টাকাও কি পাওয়া গিয়েছে?”
কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতা দখলের স্বার্থে যে তুচ্ছ রাজনীতি চলছে, তা গোটা দেশ দেখছে।”
এদিকে, পঞ্জাবের মন্ত্রী সঞ্জীব অরোরা জানিয়েছেন, তাঁর বাড়িতেও ইডি অভিযান চালিয়েছে। তিনি বলেন, “আজ সকালে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট আমার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব এবং সত্যের জয় হবে বলে বিশ্বাসী।”
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (ফেমা)-এর আওতায় গুরগাঁও, চণ্ডীগড়, লুধিয়ানা ও জলন্ধরে মোট ১৩টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। এর মধ্যে সঞ্জীব অরোরা, হেমন্ত সুদ এবং চন্দ্রশেখর আগরওয়ালের বাড়ি ও দফতরও রয়েছে।
অভিযানের সময় কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) মোতায়েন করা হয় সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। পুরনো মানি লন্ডারিং মামলা ও জমি লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগের সূত্র ধরেই এই তল্লাশি অভিযান বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ অভিযোগ করেন, কোনও রাজ্যে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে বিজেপি এই ধরনের পদক্ষেপ নেয়। তিনি বলেন, “পঞ্জাবের মন্ত্রী সঞ্জীব অরোরার বাড়িতে ইডি হানা দিয়েছে। এটি একটি নির্দিষ্ট ধারা— এভাবেই বিজেপি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে।”
উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল আপের রাজ্যসভার সাংসদ অশোক কুমার মিত্তলের বাড়ি এবং তাঁর পরিবারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতেও ফেমা আইনে তল্লাশি চালায় ইডি।
পঞ্জাবে শাসক আপ সরকার ও কেন্দ্রের মধ্যে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই ধারাবাহিক ইডি অভিযানে ‘নির্বাচিত টার্গেটিং’-এর অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা।



















