আগরতলা, ১৬ এপ্রিল: রাজধানীর বীর বিক্রম মেমোরিয়াল কলেজে এক ছাত্রকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, বহিরাগতদের উপস্থিতিতে কলেজ চত্বরে দুঃসাহসিকভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ, কলেজের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র হিরণ দাস এদিন অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে কলেজে গেলে তাঁকে বাধা দেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের এক নেতা তন্ময় ঘোষ। এরপর হিরণ প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ, তন্ময় ঘোষ জিবি বাজার এলাকার অনিক নামে এক যুবকসহ কয়েকজনকে নিয়ে মদ্যপ অবস্থায় কলেজে প্রবেশ করে। পরে তারা হিরণকে ক্লাসরুম থেকে টেনে বের করে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে যায় এবং দরজা-জানালা বন্ধ করে লোহার রড, খেলার স্ট্যাম্প ও কাঠের টুকরো দিয়ে বেধড়ক মারধর করে।
কোনোরকমে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পরও হিরণের ওপর হামলা থামেনি বলে অভিযোগ। কলেজ চত্বরে তাকে ধাওয়া করে আবারও মারধর করা হয় বলে দাবি পরিবারের। ঘটনার সময় কলেজের অধ্যক্ষ উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনো হস্তক্ষেপ করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হিরণ দাসকে উদ্ধার করে আগরতলার জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর একটি আঙুল ভেঙে গেছে এবং মাথায় আঘাত লেগেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং কলেজে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন হিরণের পরিবার ও এলাকাবাসী। পাশাপাশি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এদিকে কলেজ টিলা ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।


















