ইসলামাবাদ, ৩ এপ্রিল(আইএএনএস): ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির মধ্যে জ্বালানির দাম ব্যাপক হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্তে পাকিস্তান সরকারের কড়া সমালোচনা করল দেশের মানবাধিকার সংস্থা পাকিস্তান মানবাধিকার কাউন্সিল (এইচএইচসি)।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, এমন সময় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যখন সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যেই চরম মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপে জর্জরিত। এর ফলে নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেট্রোলের দাম প্রায় ৪৩ শতাংশ এবং হাই-স্পিড ডিজেলের (এইচএসডি) দাম প্রায় ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন ঘোষণায় পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ৩২১.১৭ পাকিস্তানি রুপি থেকে বেড়ে ৪৫৮.৪১ রুপিতে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম ৩৩৫.৮৬ রুপি থেকে বেড়ে ৫২০.৩৫ রুপি হয়েছে। এছাড়াও কেরোসিনের দামও বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫৭.৮০ রুপি প্রতি লিটার।
এই প্রসঙ্গে এইচআরসি জানায়, আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক উত্তেজনাকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে এই ধরনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কোনও যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি নেই। কারণ, বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়নি এবং বিকল্প শক্তির উৎসও দেশের কাছে রয়েছে।
সংস্থার মতে, এত বড় মাত্রায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নীতিগত স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এই সিদ্ধান্ত শুধু মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়াবে না, বরং পরিবহণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিষেবার খরচ বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
এইচআরসি আরও সতর্ক করে বলেছে, এই পরিস্থিতি মানুষের মৌলিক অধিকার, বিশেষ করে সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সরকারকে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, সাধারণ মানুষের জন্য কার্যকর স্বস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে এবং জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে যে, বাড়তে থাকা জনঅসন্তোষ ভবিষ্যতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে, যার দায় বর্তাবে নীতিনির্ধারকদের ওপরই।



















