নয়াদিল্লি, ৩ এপ্রিল(আইএএনএস): আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমকে ঘিরে ফের জল্পনা তুঙ্গে। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ চলচ্চিত্রে তাকে অসুস্থ ও শয্যাশায়ী হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা তার পুরনো শক্তিশালী ইমেজের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই দাউদ গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন এবং কার্যত ডি-কম্পানির দৈনন্দিন কার্যকলাপ থেকে অনেকটাই সরে গিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের ভিতরে নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। বিষয়টি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হয়।
আইএসআই-এর কাছে দাউদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, কারণ তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মাদক পাচার এবং জাল নোটের বিশাল নেটওয়ার্ক। এই দুই অবৈধ ব্যবসা থেকেই বিপুল অর্থ আসে, যার একটি বড় অংশ আইএসআই পেয়ে থাকে এবং তা সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয় বলে অভিযোগ।
সূত্রের খবর, দাউদের অসুস্থতার কারণে সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছোট শাকিল এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। পরিবারের তরফে তার ভাই আনিস ইব্রাহিম, ছেলে মইন নওয়াজ, স্ত্রী মাহজাবিন এবং জামাই জুনায়েদ মিয়াঁদাদের নাম সামনে আসে।
এই সংঘাত মেটাতে আইএসআই একটি সমঝোতার পথ বের করে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ডি-কম্পানিকে একক নেতৃত্বে না চালিয়ে কর্পোরেট ধাঁচে পরিচালনা করা হবে। সেই অনুযায়ী, ছোট শাকিলকে ভারতের কার্যক্রমের দায়িত্ব দেওয়া হয়, আনিস ইব্রাহিম দেখবেন আন্তর্জাতিক ব্যবসা, আর আর্থিক বিষয় সামলাবেন জুনায়েদ।
যদিও দাউদের স্ত্রী তার ছেলে মইনকে নেতৃত্বে দেখতে চেয়েছিলেন, গোয়েন্দাদের মতে তিনি তুলনামূলকভাবে নরম স্বভাবের এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বেশি মনোযোগী।
গোয়েন্দা সংস্থার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দাউদ বহু বছর ধরেই ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে ভুগছেন। বর্তমানে তার বয়স প্রায় ৭০ বছর এবং তিনি প্রায় সম্পূর্ণভাবে জনসমক্ষে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন।
আইএসআই-এর মূল লক্ষ্য ছিল ডি-কম্পানির ভাঙন রোধ করা, কারণ এই সংগঠন থেকে প্রাপ্ত অর্থই বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের অর্থের জোগান দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই কারণে নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব মিটিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যা দাউদের মৃত্যুর পরেও বহাল থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।



















