নয়াদিল্লি, ২৩ মার্চ: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মধ্যেও দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার—এমনটাই জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, আগের তুলনায় ভারত এখন অনেক বেশি দেশে জ্বালানি আমদানি করছে, ফলে সরবরাহের ঝুঁকি কমেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে ভারতের জ্বালানি আমদানি সীমাবদ্ধ ছিল ২৭টি দেশের মধ্যে। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ৪১-এ পৌঁছেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মাঝেও সরবরাহ বজায় রাখা সহজ হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, গ্যাস ও সার হরমুজ প্রণালী হয়ে দেশে আসে। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে জাহাজ চলাচল কঠিন হয়ে উঠেছে। তবুও সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে যাতে পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসের সরবরাহে বড় কোনও প্রভাব না পড়ে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারত তার মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে দেশীয় গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং একইসঙ্গে দেশীয় উৎপাদনও বাড়ানো হচ্ছে।
গত এক দশকে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে কেন্দ্রের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, দেশে এখন ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টনের বেশি কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত রয়েছে এবং তা ৬৪ লক্ষ মেট্রিক টনে বাড়ানোর কাজ চলছে।
এছাড়াও, গত ১১ বছরে দেশের রিফাইনিং ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশের সরবরাহকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত থাকে।
তিনি আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের উপর কেন্দ্রীয় সরকার সর্বক্ষণ নজর রাখছে। জ্বালানি, গ্যাস ও সারের মতো জরুরি পণ্যবাহী জাহাজগুলি যাতে নিরাপদে ভারতে পৌঁছতে পারে, সেই বিষয়ে বিশ্বসঙ্গীদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই প্রচেষ্টার ফলেই হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া একাধিক ভারতীয় জাহাজ সম্প্রতি নিরাপদে দেশে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

