উত্তর-পূর্বে বিদেশি ভাড়াটে চক্রান্ত ফাঁস, স্থানীয় নেটওয়ার্কে নজর এনআইএ-র

নয়াদিল্লি, ২৩ মার্চ: উত্তর-পূর্ব ভারতে বিদেশি ভাড়াটে জঙ্গি কার্যকলাপের বড়সড় চক্রান্ত ফাঁস করেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। এক মার্কিন ভাড়াটে ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইক এবং ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেফতারের পর সামনে এসেছে বিস্তৃত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত।

এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা মায়ানমার-ভিত্তিক জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ দিত। এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও স্থানীয় সহযোগীদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে সংস্থা। প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে, এই নেটওয়ার্কে আরও অন্তত ৯ জন জড়িত থাকতে পারে।

তদন্তকারীদের মতে, উত্তর-পূর্ব ভারতকে বিদেশি ভাড়াটেদের করিডর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল এই চক্রের। ভারত-মায়ানমার সীমান্ত এলাকাকে ব্যবহার করে শুধু প্রশিক্ষণই নয়, অন্যান্য দেশেও হামলার জন্য জঙ্গি তৈরি করা হচ্ছিল।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ)-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়ার তথ্যও মিলেছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ইউরোপ থেকে ড্রোন ও জ্যামিং যন্ত্রাংশ পাচার করে আনা হয়েছিল, এবং পর্যটক ভিসাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০২৪ সাল থেকেই সক্রিয় ছিল এই চক্র। তারা নিয়মিত মায়ানমারে গিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ দিত এবং উন্নত প্রযুক্তির সরঞ্জাম সরবরাহ করত।

গোয়েন্দা ব্যুরো-এর এক আধিকারিক জানান, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক প্রবণতা এবং নেটওয়ার্কটি যতটা দেখা যাচ্ছে তার চেয়ে অনেক বড়। উত্তর-পূর্ব, বিশেষ করে মিজোরামে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বহু বিদেশি ‘পর্যটক’-এর আনাগোনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে ২০২৪ সালে মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। ঘটনার পর থেকে উত্তর-পূর্বে আগত বিদেশিদের উপর নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলে জানা গেছে।

এনআইএ গত তিন মাস ধরে এই চক্রের উপর নজর রাখছিল। রাশিয়ার কাছ থেকে প্রথম তথ্য পাওয়ার পর নজরদারি বাড়ানো হয় এবং তারপরই এই অভিযান চালানো হয়।

তদন্তকারীদের মতে, মিজোরামের ছিদ্রযুক্ত সীমান্ত বিদেশি ভাড়াটেদের জন্য সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় মায়ানমারের কিছু গোষ্ঠীর সহায়তায় তারা সহজেই প্রশিক্ষণ ও পাচার কার্যকলাপ চালাচ্ছিল।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলির আশঙ্কা, উত্তর-পূর্বে আবারও জঙ্গি কার্যকলাপ বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে। বিদেশি নাগরিকদের জড়িত থাকা এই চক্রান্তের গভীরতা এবং উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয় নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Reply