তিরুবনন্তপুরম, ৫ মার্চ (আইএএনএস): কেরালার বিরোধী দলনেতা ভি. ডি. সতীশান-এর নেতৃত্বে গত ৬ ফেব্রুয়ারি কাসারগোড থেকে শুরু হওয়া একমাসব্যাপী ‘পুথুযুগ যাত্রা’ শনিবার রাজ্যের রাজধানী তিরুবনন্তপুরমে শেষ হবে। যাত্রার সমাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
সতীশান জানান, যাত্রার শেষ সভা অনুষ্ঠিত হবে তিরুবনন্তপুরমের পুথারিকান্দম ময়দানে। তাঁর দাবি, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ-এর এই যাত্রা রাজ্যে ক্ষমতাসীন এলডিএফ সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
তিনি বলেন, এই যাত্রায় শুধু দলীয় কর্মীরাই নয়, বিভিন্ন জেলার সাধারণ মানুষও ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে যুবক ও মহিলাদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
সতীশানের কথায়, এই পদযাত্রা শুধু সরকারের সমালোচনায় সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং কেরালার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থা, উচ্চশিক্ষা, কৃষি, পরিকাঠামো উন্নয়ন, রাজ্যের অর্থনীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইউডিএফ স্বাস্থ্য ও উচ্চশিক্ষা খাত নিয়ে আলাদা ভিশন ডকুমেন্টও প্রকাশ করেছে।
সতীশান জানান, প্রতিটি জেলায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে প্রখ্যাত ব্যক্তিদের পরিবর্তে সাধারণ মানুষকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
এই আলোচনায় অংশ নেন এন্ডোসালফান বিপর্যয়ের শিকার মানুষ, বন্যপ্রাণীর আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, কৃষিশ্রমিক, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, আশা কর্মী, লটারি কর্মচারী, প্রি-প্রাইমারি শিক্ষক, কেরালা রাজ্য সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পরিবার এবং চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীরা।
ইউডিএফ প্রতিটি জেলার সমস্যাগুলি তুলে ধরে পৃথক নথি তৈরির পরিকল্পনাও করছে বলে জানিয়েছেন সতীশান। তাঁর মতে, এই আলোচনাগুলি ভবিষ্যতে নির্বাচনী ইস্তাহার তৈরিতে এবং ক্ষমতায় এলে অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্র নির্ধারণে সহায়ক হবে।
এদিকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে সতীশান অভিযোগ করেন, তথ্য ও জনসংযোগ দফতরের মাধ্যমে এক দশক আগের ইউডিএফ সরকারের সময়কার নেতিবাচক সংবাদ তুলে ধরে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, সরকারি অর্থ ব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে সতীশান দাবি করেন, যাত্রাপথে শাসক দল সিপিএম-এর একাধিক কর্মী কংগ্রেস ও ইউডিএফের অন্যান্য শরিক দলে যোগ দিয়েছেন, যা বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাম শিবিরে অসন্তোষ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

