হিজবুল্লাহর যুদ্ধে যোগদান ইরানের প্রক্সি নেটওয়ার্কের হুমকি প্রমাণ করছে: ইসরায়েলি সেনা

তেল আবিব, ৫ মার্চ (আইএএনএস): ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অংশগ্রহণ ইরানের প্রক্সি নেটওয়ার্ক নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মতে, এই নেটওয়ার্ক দেশটির জন্য “অস্তিত্বগত হুমকি” তৈরি করছে।

একান্ত সাক্ষাৎকারে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ)-এর আন্তর্জাতিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট বেন কোহেম বলেন, হিজবুল্লাহর যুদ্ধে প্রবেশ প্রমাণ করে যে ইরান আঞ্চলিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির উপর কতটা প্রভাব বিস্তার করে।

তিনি বলেন, দুই দিন আগে হিজবুল্লাহ সন্ত্রাসী সংগঠনের এই সংঘাতে প্রবেশ দেখিয়ে দিয়েছে যে ইরানের প্রক্সি নেটওয়ার্ক ইসরায়েলের জন্য অস্তিত্বগত হুমকি। ঠিক সেই সময় তারা যুদ্ধে জড়িয়েছে যখন ইসরায়েল ইরানের শাসনের এই বড় হুমকির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার চেষ্টা করছে।

কোহেনের দাবি, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রথম ধাক্কা থেকে বেঁচে যাওয়া ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহকে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয় যে গোষ্ঠীটি লেবাননের জনগণের স্বার্থের চেয়ে তেহরানের স্বার্থ রক্ষাতেই বেশি সক্রিয়।

তিনি বলেন, ইসরায়েল বুঝতে পেরেছে যে সীমান্তের কাছে এমন হুমকি থাকতে দেওয়া যায় না। তাই আমরা নির্দিষ্টভাবে হিজবুল্লাহর ঘাঁটি ও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করছি, যাতে আমাদের নাগরিকদের উপর সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধ করা যায়।

ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কোহেন জানান, তারা দ্বিমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে। একদিকে নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে উত্তরের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা বিশেষ করে সেই সব অস্ত্র মজুতঘর এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করছি যেগুলি ইসরায়েলি নাগরিকদের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে। পাশাপাশি উত্তর সীমান্তে বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও আমাদের অগ্রাধিকার।

গত বছরের ৮ অক্টোবরের ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। তখন সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ায় লেবানন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে কয়েক হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নিতে হয়েছিল।

কোহেন বলেন, এবার সেই পরিস্থিতি এড়াতে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান নিয়েছে। এটি কোনও স্থল অভিযান নয়, বরং সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি অগ্রবর্তী প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান, যার উদ্দেশ্য উত্তর ইসরায়েলের নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া।

এদিকে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে কি না, সেই প্রশ্নে কোহেন বলেন, হামাস দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে এবং সাম্প্রতিক মাসগুলিতে হওয়া যুদ্ধবিরতিও তারা বারবার লঙ্ঘন করেছে।

তিনি বলেন, হামাস বহুবার যুদ্ধবিরতির সীমা অতিক্রম করে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করেছে। তবে আইডিএফ যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেনি এবং কেবলমাত্র লঙ্ঘনের জবাবেই পাল্টা আঘাত করেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত অন্য গোষ্ঠীগুলিও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে তারা সতর্ক রয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েলি সেনা জানায়, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর একাধিক কমান্ড সেন্টারে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলার সঙ্গে যুক্ত একটি কমান্ড সেন্টারও ছিল বলে দাবি করেছে আইডিএফ।

ইসরায়েলের দাবি, ওই কেন্দ্রগুলি ব্যবহার করে আইডিএফ এবং ইসরায়েলি নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। হামলার আগে ওই এলাকার লেবাননি সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছিল।

Leave a Reply