শ্রীনগর, ২ মার্চ (আইএএনএস): প্রশাসনের জারি করা বিধিনিষেধ সত্ত্বেও সোমবার উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। আবেগঘন জনতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর মৃত্যুর জন্য তাদের দায়ী করে।
শ্রীনগরের কামারওয়ারি থেকে বাটমালু অভিমুখে মিছিল করেন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশি অনুরোধে এবং বিধিনিষেধ ভঙ্গের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার পর ভিড় সেখান থেকে সরে যেতে রাজি হয়। শহরের উপকণ্ঠ শালতেং এলাকাতেও পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ হয়। পাশাপাশি শ্রীনগর-গুলমার্গ সড়কের মাগাম এলাকাতেও বৃহৎ বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়।
বিক্ষোভকারীরা আবেগপ্রবণ থাকলেও এখনও পর্যন্ত আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি। পুলিশের আশঙ্কা, দুষ্কৃতী ও দেশবিরোধী শক্তি ভিড়ের মধ্যে মিশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করতে পারে। এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানান, এই আশঙ্কাতেই সোমবার কড়াকড়ি বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।
উপত্যকা জুড়ে ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে উসকানিমূলক বা ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে উত্তেজনা বাড়ানো না যায়। সমস্ত স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় দু’দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিকের নির্দেশে ড্রাইভিং টেস্টও স্থগিত করা হয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের ডিজিপি নলিন প্রভাত-সহ শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা শ্রীনগরে অবস্থান করছেন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে।
ধর্মীয় নেতারাও শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন। মিরওয়াইজ ওমর ফারুক-সহ শিয়া ও সুন্নি উভয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতারা মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে জনগণকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, কুপওয়ারা জেলার হান্দওয়ারা শহরে গণপরিবহণ স্বাভাবিক থাকলেও অপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানপাট বন্ধ ছিল। উপত্যকার অন্যান্য শহর ও জনপদে সরকারি বিধিনিষেধ ও বিক্ষোভের জেরে পরিবহণ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব পড়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

