নয়াদিল্লি, ২ মার্চ (আইএএনএস): ইরানে মার্কিন-ইজরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। বোর্ডের সচিব উমরাইন মাহফুজ রহমানি এই হামলাকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” এবং “বিশ্বশান্তির জন্য গুরুতর হুমকি” বলে অভিহিত করেছেন।
আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রহমানি বলেন, “যেভাবে আমেরিকা ও ইজরায়েল আগ্রাসন দেখিয়েছে এবং গাজা ও প্যালেস্টাইনে ইজরায়েলের লাগাতার হামলা চলেছে, তা বিশ্বশান্তির সামনে বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে ধরছে। এই ধরনের পদক্ষেপের প্রকাশ্যে নিন্দা হওয়া উচিত। বিশ্ব যুদ্ধ নয়, শান্তি চায়। প্রকৃত শান্তি তখনই আসে, যখন সীমা ও সংযম রক্ষা করা হয়। আমেরিকা ও ইজরায়েলের স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপ এবং ইরানে হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”
তিনি আরও বলেন, “ইরান মাথা নত করেনি এবং এক বিশিষ্ট নেতা (আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই) শহিদ হয়েছেন। এটি ইসলামের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি গর্বের সঙ্গে আত্মবলিদান দিয়েছেন এবং অত্যাচারীর সামনে মাথা নত না করার বার্তা দিয়েছেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ শুধু শিয়া সম্প্রদায় নয়, সারা বিশ্বের অনুসারীদের নাড়া দিয়েছে। ইজরায়েল ও আমেরিকার এই পদক্ষেপের নিন্দা বিশ্বজুড়ে হয়েছে।”
রহমানি মন্তব্য করেন, “সত্য ও অসত্যের লড়াই চিরকাল চলেছে। এখন প্রশ্ন হল, আমরা কীভাবে নিজেদের মানুষ ও দেশকে রক্ষা করব? সুযোগ পেলেই ক্ষতি করার চেষ্টা হবে, এ বিষয়ে সন্দেহ নেই।”
উল্লেখ্য, মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ হামলায় খামেনেই নিহত হয়েছেন বলে ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প দাবি করেন, এটি ইরানের জনগণের জন্য “দেশের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় সুযোগ”। তিনি খামেনেইকে “ইতিহাসের অন্যতম দুষ্ট ব্যক্তি” বলে উল্লেখ করে হামলাকে “ন্যায়বিচার” বলে আখ্যা দেন।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির দাবি, এই হামলায় খামেনেইর চার আত্মীয়—তাঁর কন্যা, নাতি/নাতনি ও জামাই-সহ—নিহত হয়েছেন।
ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি

