ইসরায়েলি হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও আইআরজিসি প্রধানসহ ৭ শীর্ষ কমান্ডার নিহতের দাবি

তেল আবিব, ১ মার্চ (আইএএনএস) : ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) রবিবার দাবি করেছে, ইরানের বিভিন্ন স্থানে চালানো ‘নির্ভুল বিমান হামলায়’ দেশটির সাতজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রধান। তবে ইসরায়েলের প্রকাশিত তালিকায় উল্লেখিত কমান্ডারদের মৃত্যুর বিষয়ে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো নিশ্চিতকরণ দেয়নি।

আইডিএফ জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, সামরিক গোয়েন্দা অধিদপ্তর তেহরানে দুটি পৃথক স্থানে উচ্চপদস্থ ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অবস্থান শনাক্ত করার পর ইসরায়েলি বিমান বাহিনী (আইএএফ) অভিযান পরিচালনা করে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী শামখানি। আইডিএফ জানায়, গত বছরের সংঘাতেও তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

ইসরায়েল আরও দাবি করেছে যে আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর হামলায় নিহত হয়েছেন। আইডিএফের অভিযোগ, পাকপুর ‘ইসরায়েল ধ্বংসের পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা তদারকি করতেন। এছাড়া নিহতদের তালিকায় রয়েছে সালাহ আসাদি, মোহাম্মদ শিরাজি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহসহ ইরানের এসপিএনডি অস্ত্র উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

ইসরায়েলের অভিযোগ, এসব কর্মকর্তা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন, আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং পারমাণবিক কর্মসূচি-সংশ্লিষ্ট উন্নত অস্ত্র প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। আইডিএফ এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের ছাড়া বিশ্ব আরও নিরাপদ।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিও নিহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ৪৬ বছরের শিয়া ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ইতিহাসে এটি একটি বড় মোড়বদলের মুহূর্ত, যার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পাল্টা প্রতিক্রিয়া ও সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply