নয়াদিল্লি, ২৮ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): জাতীয় বিজ্ঞান দিবস উপলক্ষে দেশের সকল বিজ্ঞানী ও গবেষকদের শুভেচ্ছা জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে তিনি বিজ্ঞানীদের নিষ্ঠা, উদ্ভাবন ও জাতি গঠনে তাঁদের অবদানের প্রশংসা করেন।
এক্সে বার্তায় তিনি লেখেন, “জাতীয় বিজ্ঞান দিবসে আমাদের সকল বিজ্ঞানী ও গবেষকদের শুভেচ্ছা। আপনাদের অনুসন্ধিৎসা আমাদের পথ আলোকিত করে এবং একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ার সমাধান তৈরি করে। এই দিন আমাদের উদ্ভাবন, নির্মাণ ও নিজেদের পছন্দের ভবিতব্য গড়ার সংকল্পকে নতুন করে জাগ্রত করুক।”
প্রতি বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারত জাতীয় বিজ্ঞান দিবস পালন করে মহান বিজ্ঞানী সি. ভি. রমন-এর ‘রামন প্রভাব’ আবিষ্কারের স্মরণে। ১৯২৮ সালে আলোর বিচ্ছুরণ নিয়ে তাঁর ঐতিহাসিক আবিষ্কার পরবর্তীতে তাঁকে ১৯৩০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার এনে দেয়। এর মাধ্যমে তিনি বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নোবেলজয়ী প্রথম এশীয় হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন।
সময়ের সঙ্গে জাতীয় বিজ্ঞান দিবস একটি সর্বভারতীয় আন্দোলনে পরিণত হয়েছে, যার লক্ষ্য বৈজ্ঞানিক মানসিকতা গড়ে তোলা, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করা।
এ বছর জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান রাজধানীর বিজ্ঞান ভবন-এ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানের সূচনা হবে প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা অধ্যাপক অজয় কুমার সুদের সভাপতিত্বে বিশেষ বক্তৃতার মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানে দেশীয় মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির অগ্রগতি নিয়ে বক্তব্য রাখবেন ড. শুভা ভি. আইয়ঙ্গার। গুরুত্বপূর্ণ ধাতু ও উপাদানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করবেন ড. কে. বালাসুব্রামানিয়ান। ডাইরেক্ট-টু-মোবাইল সম্প্রচার প্রযুক্তিতে উদ্ভাবন প্রসঙ্গে বক্তব্য দেবেন শ্রী শশী এস. ভেম্পতি।
বিজ্ঞান ও জননীতির সংযোগ নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনাও কর্মসূচির অংশ। নীতি আয়োগ, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সায়েন্স অ্যাকাডেমি, সিএসআইআর-এর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সিএসটিইপি এবং আইজিএসটিসি-র বিশেষজ্ঞরা জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক গবেষণার সামঞ্জস্য নিয়ে মতবিনিময় করবেন।
এছাড়াও ভারতীয় ভাষায় বিজ্ঞান যোগাযোগ এবং ‘ফেস টু ফেস উইথ সায়েন্টিস্টস’ শীর্ষক ইন্টারঅ্যাক্টিভ সেশনও আয়োজিত হয়েছে।
ঐতিহাসিক বৈজ্ঞানিক সাফল্যের স্মরণে পালিত হলেও জাতীয় বিজ্ঞান দিবস কেবল উদ্যাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা প্রসার, গবেষণা ও নীতিনির্ধারণের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলা, দেশীয় উদ্ভাবনকে শক্তিশালী করা এবং বিশেষত স্টেম ক্ষেত্রে নারীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
_____

