নয়াদিল্লি, ২৭ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): দিল্লির বহুল আলোচিত আবগারি নীতি মামলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়াকে বড় স্বস্তি দিয়েছে আদালত। শুক্রবার রাউজ অ্যাভিনিউ আদালতের রায়ের পর বিরোধী শিবিরে স্বস্তির সুর শোনা যায়। আম আদমি পার্টির সাংসদ সঞ্জয় সিংহ দাবি করেন, অভিযোগগুলি বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল।
এক্স-এ পোস্ট করে সিংহ লেখেন, আদালত তাঁদের নেতাদের অব্যাহতি দিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে জনপ্রিয় ও সৎ মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং সৎ ও দক্ষ শিক্ষামন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁদের নেতাদের জেলে নির্যাতন করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
রায়ের পর একাধিক বিরোধী নেতা প্রতিক্রিয়া জানান। শিবসেনা (ইউবিটি)-র সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী এক্স-এ লেখেন, মিথ্যা, প্রোপাগান্ডা এবং বিষাক্ত রাজনৈতিক এজেন্ডার বিরুদ্ধে লড়াই করে সত্য ও ন্যায়ের জয় নিশ্চিত হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র লেখেন, “সত্যমেব জয়তে।” তিনি বিজেপিকে সতর্ক করে বলেন, সময় থাকতে শিক্ষা নেওয়া উচিত। ইডি ও সিবিআই-কে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, সত্যের সামনে সব কৌশল ব্যর্থ হবে।
উল্লেখ্য, রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণের মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। ন্যায়সঙ্গত বিচার প্রক্রিয়ার জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য বলে আদালত মন্তব্য করে। প্রসিকিউশন তাদের অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং কোনও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের প্রমাণও উপস্থাপন করতে পারেনি বলেও আদালত জানায়।
এর আগে বাতিল হওয়া আবগারি নীতির সঙ্গে যুক্ত দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে ইডি এবং সিবিআই কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়াকে গ্রেফতার করেছিল। ২০২২ সালে সিবিআই প্রথম চার্জশিট দাখিল করে এবং পরে সম্পূরক চার্জশিট জমা দেয়। অভিযোগ ছিল, কিছু মদ লাইসেন্সধারীকে বেআইনি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে আদালত জানায়, মামলাটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
এই রায়কে আম আদমি-র জন্য বড় রাজনৈতিক ও আইনি জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য এটি উল্লেখযোগ্য স্বস্তি এনে দিল বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।

