আবগারি নীতি ‘কেলেঙ্কারি’ মামলায় কেজরিওয়াল-সিসোদিয়াকে অব্যাহতি দিল দিল্লির আদালত

নয়াদিল্লি, ২৭ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): কথিত আবগারি নীতি কেলেঙ্কারি মামলায় প্রাক্তন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া-সহ অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে অস্বীকার করল দিল্লির একটি আদালত। এতে বড় ধাক্কা খেল কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই)।

রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত অভিযুক্তদের অব্যাহতির আবেদন মঞ্জুর করে জানায়, তদন্তে এমন কোনও পর্যাপ্ত প্রমাণ সামনে আসেনি যা থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, এমনকি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগও প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে অভিযোগ গঠনের মতো উপযুক্ত ভিত্তি নেই বলে আদালত পর্যবেক্ষণ করে।

এর আগে আবগারি নীতি সংক্রান্ত তদন্তে কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের জামিন মঞ্জুর করে।

উল্লেখ্য, বিতর্কিত মামলাটি দিল্লি সরকারের ২০২১-২২ অর্থবর্ষের আবগারি নীতি ঘিরে। লাইসেন্স প্রদান ও মূল্য নির্ধারণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় ওই নীতি পরে প্রত্যাহার করা হয়। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির অভিযোগ ছিল, আম আদমি পার্টির (আপ) শীর্ষ নেতারা ‘সাউথ গ্রুপ’ নামে পরিচিত একটি কার্টেলের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে নির্বাচিত মদ লাইসেন্সধারীদের সুবিধা পাইয়ে দেন।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি ছিল, নীতির অনিয়মিত প্রয়োগের ফলে সরকারি কোষাগারের বিপুল ক্ষতি হয়েছে এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত বিধি ও ছাড়ের ক্ষেত্রে কারচুপি করা হয়েছে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট সিবিআইয়ের দুর্নীতি মামলায় কেজরিওয়ালকে জামিন দেয়। আদালত তাঁকে বিচার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশ দেয় এবং মামলার বিষয়বস্তু নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়। এর আগে অর্থপাচার সংক্রান্ত মামলায়ও শীর্ষ আদালত অন্তর্বর্তী স্বস্তি দিয়েছিল এবং সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছিল।

মনীশ সিসোদিয়াকে ২০২৪ সালের অগস্টে প্রায় ১৭ মাস কারাবাসের পর জামিন দেয় সুপ্রিম কোর্ট। আদালত পর্যবেক্ষণ করে, শতাধিক সাক্ষী ও বিপুল নথিপত্র জড়িত থাকায় বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। দীর্ঘকাল আটক রাখা হলে তা দ্রুত বিচারের অধিকারের পরিপন্থী হবে বলেও মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত।

Leave a Reply