জাপানে গ্রিন হাইড্রোজেন প্রযুক্তি নিয়ে এমওইউ স্বাক্ষর, বিনিয়োগের আহ্বান সিএম যোগীর

টোকিও/নয়াদিল্লি, ২৬ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): গ্রিন হাইড্রোজেন প্রযুক্তি ক্ষেত্রে জাপানের ইয়ামানাশি প্রিফেকচারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করল উত্তরপ্রদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার চুক্তি স্বাক্ষরের পর মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানান, এই উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র ‘নেট জিরো’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

গ্রিন হাইড্রোজেন প্রযুক্তি সংক্রান্ত এই এমওইউ অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের উচ্চ প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা জাপানে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি, রাজ্যের শিল্প, গণপরিবহন ও শক্তিক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে ইয়ামানাশিতে আয়োজিত ‘ইউপি ইনভেস্টমেন্ট রোড শো’-তে বিশ্ব শিল্পমহলের সামনে উত্তরপ্রদেশের নতুন উন্নয়ন নীতি ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরেন যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেন, রাজ্যের প্রশাসনিক ধরন “রিঅ্যাকটিভ” থেকে “প্রো-অ্যাকটিভ” মডেলে রূপান্তরিত হয়েছে, যা দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।

রোবোটিক্সকে ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রোবোটিক্সে ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ গড়তে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত-জাপান সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হলে শক্তিক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা যেমন জোরদার হবে, তেমনই সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে প্রযুক্তি পৌঁছবে।

উত্তরপ্রদেশের জনমিতিক সুবিধা ও প্রাকৃতিক সম্পদের কথা উল্লেখ করে যোগী বলেন, রাজ্যের উর্বর ভূমি, প্রাচুর্য জলসম্পদ এবং বিপুল মানবসম্পদ বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। গত নয় বছরে উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছনোর ফলে রাজ্য এখন শিল্প বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য।

তিনি আরও জানান, বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্পের প্রসার, নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে সরকার ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই লক্ষ্যেই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল জাপান সফরে এসেছে, যাতে সম্ভাবনাকে বাস্তব সুযোগে রূপান্তর করা যায়।

মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইয়ামানাশির গভর্নর উত্তরপ্রদেশ সফর করেছিলেন। তার পর থেকেই দুই সরকারের মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপ ও প্রতিনিধিদল বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা নতুন দিশা পেয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের সমীক্ষা ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ইয়ামানাশির গভর্নরের আমন্ত্রণে উত্তরপ্রদেশের প্রতিনিধি দল জাপানে এসে এই চুক্তিকে চূড়ান্ত রূপ দেয়।

Leave a Reply