কেরালার নাম পরিবর্তন বিজেপি-সিপিআই(এম)-এর নীরব সমঝোতার ফল: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা, ২৪ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : বামফ্রন্ট শাসিত কেরালার নাম পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে বিজেপি ও সিপিআই(এম)-এর নীরব সমঝোতার জেরে। মঙ্গলবার এমনই দাবি করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের গোপন রাজনৈতিক সমঝোতা পশ্চিমবঙ্গেও রয়েছে।

সম্প্রতি কেরালার নাম ‘কেরালাম’ করার প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কেরালার নাম পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে বিজেপি ও সিপিআই(এম)-এর বোঝাপড়ার কারণে। কিন্তু আমাদের ‘পশ্চিমবঙ্গ’-এর নাম ‘বাংলা’ করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়নি। তবু শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব, যাতে রাজ্যের নাম পরিবর্তন হয়।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের সংস্কৃতি, ইতিহাস, ভাবনা ও দর্শনের কথা মাথায় রেখেই তিনি ‘পশ্চিমবঙ্গ’-এর নাম ‘বাংলা’ করার প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাব একাধিকবার বিধানসভায় গৃহীত হলেও কেন্দ্রীয় সরকার তা অনুমোদন করেনি।

তিনি বলেন, জাতীয় স্তরের পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকারে আমাদের ছাত্রছাত্রীদের নাম শেষে ডাকা হয়, কারণ ইংরেজি বর্ণানুক্রমে ‘ডব্লিউ’ শেষে পড়ে। আমাকেও বিভিন্ন সম্মেলনে একই সমস্যার মুখে পড়তে হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অতীতে একাধিক রাজ্যের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকার মঞ্জুর করেছে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তা হয়নি। যদিও একই সঙ্গে তিনি কেরালার মানুষকে শুভেচ্ছাও জানান।

তিনি আরও বলেন, এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর সঙ্গে তিনি আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু কোনও ফল হয়নি। ওরা ‘বিরোধী-বাংলা’ ও ‘বিরোধী-বাঙালি’। পশ্চিমবঙ্গের মনীষী ও মহাপুরুষদের অসম্মান করে। ভোটের সময়ই শুধু ‘বাংলা’ শব্দটি ব্যবহার করে, অভিযোগ করেন তিনি।

তবে অন্য কোনও রাজ্যের নাম পরিবর্তনে তাঁর আপত্তি নেই বলেও স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। আমরা নমনীয়। অন্য রাজ্যের সঙ্গে আমাদের কোনও বিরোধ নেই। আমরা সব রাজ্যকেই ভালোবাসি। শুধু চাই, আমাদেরও যেন নাম পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া হয়, বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান আপত্তি ছিল ‘বাংলা’ নামটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের নামের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ শোনায়। এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে না মঞ্জুর হয়েছে, না বাতিল হয়েছে।

Leave a Reply