ট্রাম্পের শুল্ক ফেরতের দাবি: সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বিল আনলেন মার্কিন সেনেটররা

ওয়াশিংটন, ২৪ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটর ডেমোক্র্যাট সদস্যরা বিলিয়ন ডলার ফেরতের লক্ষ্যে নতুন আইন প্রস্তাব করেছেন।

সেনেটর বেন রে লুজান বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অবৈধভাবে ব্যাপক শুল্ক আরোপ করে “বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যযুদ্ধ” শুরু করেছিলেন, যার ফলে লক্ষ লক্ষ আমেরিকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

প্রস্তাবিত ‘ট্যারিফ রিফান্ড অ্যাক্ট, ২০২৬’ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ)-এর অধীনে আরোপিত সব শুল্ক সুদ-সহ ফেরত দিতে হবে। আইনপ্রণেতাদের অনুমান, প্রশাসন প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল।

লুজান বলেন, ট্রাম্পের বেপরোয়া শুল্ক নীতি পণ্যের দাম বাড়িয়েছে এবং ছোট ব্যবসা ও শ্রমজীবী পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাই আমরা এমন আইন আনছি, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসাগুলি তাদের বহন করা খরচ ফেরত পায়।

সেনেটর রন ওয়াইডেন মন্তব্য করেন, ট্রাম্পের অবৈধ কর নীতি আমেরিকান পরিবার, ছোট ব্যবসা ও উৎপাদনকারী সংস্থাগুলিকে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মুখে ফেলেছে। এখন সবচেয়ে জরুরি হল ক্ষতিগ্রস্তদের পকেটে দ্রুত অর্থ ফেরানো।

সেনেটর এডওয়ার্ড মার্কি বলেন, এই অবৈধ শুল্ক ছোট ব্যবসা ও ভোক্তাদের কাছ থেকে প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার আদায় করেছে। সেই অর্থ অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত বিল ছোট আমদানিকারক ও ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলিকে অগ্রাধিকার দেবে এবং জটিল প্রশাসনিক বাধা কমাবে।

সেনেটর জিন শাহীন বলেন, এই শুল্ক নীতি শুধু অনিশ্চয়তা ও মূল্যবৃদ্ধি বাড়িয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে প্রেসিডেন্টের একতরফাভাবে জরুরি শুল্ক আরোপের ক্ষমতা ছিল না। এখন পরিবার ও ছোট ব্যবসার প্রয়োজনীয় স্বস্তি দেওয়া জরুরি।

প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনকে ১৮০ দিনের মধ্যে সুদ-সহ সমস্ত শুল্ক ফেরত দিতে হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য ও সহায়তা প্রদান করতে হবে। এছাড়া প্রতি ৩০ দিনে কংগ্রেসে অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, কংগ্রেসম্যান জন গারামেন্ডি সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ট্রাম্প নিজেকে আইন, কংগ্রেস ও সংবিধানের ঊর্ধ্বে ভাবতেন। এই রায় সাধারণ আমেরিকানদের জন্য বড় জয়।

উল্লেখ্য, একাধিক অঙ্গরাজ্য অভিযোগ করেছিল যে প্রেসিডেন্ট আইইইপিএ-র অধীনে নিজের ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। নিম্ন আদালতগুলিও প্রশাসনের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিল, যার পর চূড়ান্তভাবে সুপ্রিম কোর্ট শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে।

Leave a Reply