আগরতলা, ২৩ ফেব্রুয়ারি: দেশের বিচারব্যবস্থা সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাস্থল। তাই বিচারালয়ের পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষায় সর্বস্তরের আদালতকে নিরপেক্ষ ও নির্ভীক ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচনের সময় ক্ষয়রাতি ঘোষণা, নগদ অর্থ বিতরণ সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রলোভন সংক্রান্ত বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণকে ঘিরে এমনটাই প্রতিক্রিয়া জানাল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। সোমবার আগরতলায় এক প্রেস বিবৃতিতে দলের মুখপাত্র প্রদীপ চক্রবর্তী এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশের সর্বোচ্চ আদালত এক মামলার শুনানিতে নির্বাচনের সময় ক্ষয়রাতি ঘোষণা ও নগদ অর্থ বিলির মতো বিষয়কে অনৈতিক, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর এবং উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের পরিপন্থী বলে আখ্যা দেন। পাশাপাশি সরকারগুলিকে রাজনৈতিক দল ও নেতাদের এই ধরনের পদক্ষেপের পরিবর্তে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পরামর্শও দেন মাননীয় বিচারপতিরা। প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই পর্যবেক্ষণকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
দলের দাবি, জাতীয় কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের নির্বাচনি প্রলোভনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন ও প্রচার চালিয়ে আসছে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্যে এ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সরব থেকেছে কংগ্রেস।
তবে একইসঙ্গে বিবৃতিতে বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নও তোলা হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেসের বক্তব্য, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মতো বিচারালয় নিয়েও সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। যদিও বিচারালয়ের প্রতি সম্মান বজায় রেখেই তারা দাবি করেছে, কিছু ক্ষেত্রে শাসক দলের পক্ষে অনুকূল ভূমিকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বিবৃতিতে অতীতের একাধিক ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়, নির্বাচনের আগে নগদ অর্থ প্রদান বা আর্থিক সুবিধা ঘোষণা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার নজির রয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচনের প্রাক্কালে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ বিতরণ এবং নির্বাচনি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সর্বোচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করা হলেও সব ক্ষেত্রে একরকম সক্রিয়তা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া, সম্প্রতি একটি রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর কিছু বিতর্কিত মন্তব্য সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়েও সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন জানানো হলেও মামলাটি সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্রের বক্তব্য, দেশের বিচারব্যবস্থা সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাস্থল। তাই বিচারালয়ের পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষায় সর্বস্তরের আদালতকে নিরপেক্ষ ও নির্ভীক ভূমিকা পালন করতে হবে। একইসঙ্গে কোনও রায় শাসকগোষ্ঠীর পছন্দ না হলে তা কার্যকর করতে বিলম্ব বা আইন পরিবর্তনের প্রবণতা থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেস আশা প্রকাশ করেছে, দেশের সর্বোচ্চ আদালত ও অন্যান্য বিচারালয় ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করবে।

