ভুবনেশ্বর, ২৩ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): ওডিশা বিধানসভায় সোমবারও অচলাবস্থা অব্যাহত থাকল। মান্ডিতে ধান সংগ্রহে বিশৃঙ্খলা ও তথাকথিত ‘এপস্টিন ফাইল’ ইস্যুতে বিরোধী বিজু জনতা দল (বিজেডি) এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (কংগ্রেস) সদস্যরা বিক্ষোভে সামিল হন।
সকাল সাড়ে ১০টায় প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হতেই বিজেডি বিধায়করা পোস্টার হাতে নিয়ে স্পিকারের আসনের সামনে ওয়েলে নেমে স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন মান্ডিতে ধান সংগ্রহে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা চলছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা। ধান না তোলা এবং ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) না দেওয়ায় কৃষকরা চরম সঙ্কটে রয়েছেন বলে দাবি বিরোধীদের।
অন্যদিকে, কংগ্রেস সদস্যরা ‘এপস্টিন ফাইল’ নিয়ে আলোচনার দাবি তোলেন। তাঁদের দাবি, ওই ফাইলে নাম জড়ানোয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি-র পদত্যাগ করা উচিত। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র বিরুদ্ধেও সমালোচনা করা হয়। এর প্রতিবাদে বিজেপি বিধায়করা জানান, প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিধানসভার সদস্য নন, তাই তাঁদের নিয়ে এভাবে সমালোচনা করা উচিত নয়।
স্পিকার সুরমা পাধি বারবার বিরোধী সদস্যদের নিজ নিজ আসনে ফিরে গিয়ে কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানান। তবে বিক্ষোভ থামেনি। হট্টগোলের জেরে স্পিকার একাধিকবার অধিবেশন মুলতবি করেন এবং শেষ পর্যন্ত বিকেল ৪টা পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেন।
অচলাবস্থা কাটাতে স্পিকার একটি সর্বদল বৈঠকও ডাকেন। উল্লেখ্য, ১৭ ফেব্রুয়ারি বাজেট অধিবেশন শুরুর পর থেকেই বিধানসভায় অচলাবস্থা চলছে।
বিধানসভার বাইরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে বিজেডির প্রবীণ নেতা দিব্যা শঙ্কর মিশ্র রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি ঘোষণা করেন, কৃষকদের দাবিতে মঙ্গলবার ভুবনেশ্বরে বড় আকারের বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়া হবে।
মিশ্র বলেন, “গণতন্ত্রে শাসনব্যবস্থা হওয়া উচিত দরিদ্রতম মানুষ, কৃষক, অনগ্রসর ও বঞ্চিতদের কল্যাণের জন্য। কিন্তু এই সরকার কল্যাণের প্রকৃত অর্থই বোঝেনি।”
তিনি অভিযোগ করেন, বীজ, সারসহ কৃষি উপকরণের দাম বেড়েছে, অথচ কৃষকদের যথাযথ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না। ১০০ ইউনিট বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। এমএসপি বাড়ানোর ঘোষণা হলেও কৃষকরা তার সুফল পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ তোলেন।
এছাড়া কৃষিঋণ মকুব, ক্রয়সীমা প্রত্যাহার এবং উদ্বৃত্ত ধান সম্পূর্ণভাবে সংগ্রহের দাবি জানান তিনি। “১৫০ কুইন্টালের ক্রয়সীমা তুলে নিতে হবে। কৃষকদের উদ্বৃত্ত ধান কী হবে? সরকারকে সব উৎপাদিত ধান সংগ্রহের নিশ্চয়তা দিতে হবে,” বলেন মিশ্র।

