কাঠমান্ডু, ২৩ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে নেপালের পার্সা জেলায় সীমান্ত শহর বীরগঞ্জের একাংশে কারফিউ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসন অফিস, পারসা (ডিএও) জানিয়েছে, পূর্বে বীরগঞ্জ বাইপাস, পশ্চিমে সিরসিয়া নদী, উত্তরে গণ্ডক চক এবং দক্ষিণে শঙ্করাচার্য গেট পর্যন্ত নির্দিষ্ট এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সভা, সমাবেশ, মিছিল, বিক্ষোভ, বৈঠক ও অবস্থান কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
পার্সার প্রধান জেলা আধিকারিক ভোলা দাহাল জানান, বীরগঞ্জের শ্রীপুর এলাকায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ দপ্তরের মুখপাত্র ও ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট হরি বাহাদুর বাসনেত বলেন, রবিবার সন্ধ্যায় একটি চারচাকার গাড়ি রাস্তা দিয়ে যেতে না পারাকে কেন্দ্র করে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, কয়েকজন হিন্দু যুবকের পার্ক করা মোটরসাইকেলের কারণে এক মুসলিম চালকের গাড়ি আটকে যায়। উভয় পক্ষের মধ্যে কটূক্তি বিনিময়ের জেরে পরিস্থিতি ধর্মীয় সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
প্রশাসনের দাবি, কারফিউ জারির পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
উল্লেখ্য, বীরগঞ্জ ভারতের রক্সৌল শহরের সংলগ্ন এবং নেপালের আমদানি-রফতানির প্রধান প্রবেশদ্বারগুলির একটি। শহরটিতে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে এবং অতীতেও বিচ্ছিন্নভাবে ধর্মীয় উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে।
সম্প্রতি দক্ষিণাঞ্চলের আরেক সীমান্ত জেলা রৌতাহাটের সদর শহর গৌরেও হিন্দু বিবাহ শোভাযাত্রা ও রমজান উপলক্ষে ধর্মীয় আচরণ পালনরত মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। একইভাবে, জানুয়ারির শুরুতে ধনুষা জেলায় একটি মসজিদ ভাঙচুরের ঘটনার পর বীরগঞ্জে কারফিউ জারি করা হয়েছিল।
আগামী ৫ মার্চ নির্ধারিত প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ঘটনাগুলি ঘটায় প্রশাসন বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সামান্য স্থানীয় বিরোধ যাতে বৃহত্তর সাম্প্রদায়িক সংঘাতে রূপ না নেয়, তা নিশ্চিত করতেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

