নয়াদিল্লি, ২ ফেব্রুয়ারী : লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় সোমবার চীন সীমান্ত প্রসঙ্গ ঘিরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানের কথিত স্মৃতিকথা থেকে একটি সাময়িকী প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিলে তা ঘিরেই শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
রাহুল গান্ধী তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই ২০২০ সালের একটি ঘটনাকে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “চারটি চীনা ট্যাঙ্ক ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকছিল। তারা ডোকলামে একটি রিজ দখল করছিল। সেনাপ্রধান লিখেছেন, ট্যাঙ্কগুলি কৈলাশ রেঞ্জের কয়েকশো মিটার দূরে ছিল।” এই মন্তব্যের পরেই সংসদে হইচই পড়ে যায়। সামাজিক মাধ্যমেও অনেকে প্রশ্ন তোলেন, রাহুল গান্ধী ডোকলাম না গালওয়ান—কোন ঘটনার কথা বলছেন।
উল্লেখ্য, ভারত-চীন-ভুটান সীমান্ত সংযোগস্থলে অবস্থিত ডোকলামে ২০১৭ সালে ভারত ও চীনের মধ্যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। অন্যদিকে, ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে দুই দেশের সেনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহিদ হন।
রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের মাঝখানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং উঠে দাঁড়িয়ে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, “একটি অপ্রকাশিত বই থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া উচিত নয়। তিনি যে বইয়ের কথা বলছেন, সেটি এখনও প্রকাশিত হয়নি। আগে সেটি সংসদের সামনে পেশ করা হোক।”
এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও হস্তক্ষেপ করে প্রশ্ন তোলেন, “বইটি যদি প্রকাশিত না হয়ে থাকে, তাহলে এই তথ্য তিনি কীভাবে জানলেন?”
এ সময় সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব রাহুল গান্ধীর পক্ষ নিয়ে বলেন, “লোহিয়া, নেতাজি ও জর্জ ফার্নান্ডেজ—সকলেই চীন সম্পর্কে আমাদের সতর্ক করেছেন। চীন সংক্রান্ত বিষয় অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিরোধী দলনেতাকে কথা বলতে দেওয়া উচিত।”
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু রাহুল গান্ধীকে স্পিকারের নির্দেশ মেনে চলার অনুরোধ জানান।
শেষ পর্যন্ত লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা হস্তক্ষেপ করে বলেন, বিরোধী দলনেতাকে কেবল রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কিত বিষয়েই কথা বলতে হবে এবং “অপ্রকাশিত” স্মৃতিকথা থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া যাবে না। তিনি নিয়ম পাঠ করে শোনান যে অধিবেশনের আলোচ্য বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কহীন বই বা সংবাদপত্র থেকে কিছু পড়া যাবে না।
স্পিকার বলেন, “বিরোধী দলনেতা হিসেবে আপনি সংসদে অভিযোগ তুলছেন, কিন্তু নিয়ম মানছেন না। এটি উপযুক্ত নয়।”
জবাবে রাহুল গান্ধী বলেন, “আপনি বলুন, স্পিকার স্যার, আমি কী নিয়ে বলব।”
ওম বিড়লা উত্তর দেন, “আমি আপনার উপদেষ্টা নই। তবে স্পিকার হিসেবে সংসদ যেন নিয়ম মেনে চলে এবং আলোচনা তালিকাভুক্ত বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকে, তা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব।”
স্পিকার রাহুল গান্ধীকে চেয়ারকে অসম্মান না করতে এবং তাঁর নির্দেশ অমান্য না করারও সতর্কবার্তা দেন।



















