কর্নাটকে রাজ্যপাল-বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে

বেঙ্গালুরু, ২৫ জানুয়ারি : অবিজেপি রাজ্যগুলিতে রাজ্যপালদের কর্মকাণ্ড নিয়ে এবার সরব হলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। রাজ্যপালদের কেন্দ্রের হাতের পুতুল এবং রিমোট কন্ট্রোল দ্বারা পরিচালিত হওয়া নিয়ে অভিযোগ করেছেন তিনি। খাড়গের দাবি, এই রাজ্যপালরা এখন অবিজেপি রাজ্যগুলির সরকারকে বিরক্ত করাই তাদের প্রধান কাজ হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি, কর্নাটকে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে খাড়গে কেন্দ্র ও রাজ্যপালকে একযোগে নিশানা করেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সরাসরি রাজ্যপালদের নির্দেশ দিচ্ছে। সেই নির্দেশ মেনেই রাজ্যপালরা বিধানসভায় বক্তৃতা না পড়ে চলে যাচ্ছেন।” খাড়গে আরও বলেন, “এই পরিস্থিতি শুধু কর্নাটকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তামিলনাড়ু, কেরালার মতো যেখানেই অবিজেপি সরকার রয়েছে, সেখানেই এই ধরনের অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।”

খাড়গে বলেন, “রাজ্যপালরা ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেন যে, তারা এই ধরনের কর্মকাণ্ড উপরমহলের নির্দেশেই করেন। এই বিজেপি সরকার রাজ্যপালদের পুতুলে পরিণত করেছে। রাজ্যপালরা সরকারের ভালো কাজ বা বিলে সই করতে অসম্মতি জানিয়ে সেগুলি ফেরত পাঠান। এর মাধ্যমে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার দেশকে ভুল পথে পরিচালিত করছে।”

সম্প্রতি, কর্নাটকের রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট রাজ্য সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ না পড়ে মাত্র দু’টি বাক্যে ভাষণ শেষ করে বিধানসভা ত্যাগ করেন, যা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে পৌঁছেছে। রাজ্যপাল জানিয়ে দেন, “আমার সরকার রাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির গতি দ্বিগুণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জয় হিন্দ, জয় কর্নাটক।”

এই ঘটনায় কর্নাটক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া রাজ্যপালের আচরণকে সংবিধান লঙ্ঘন বলে তোপ দাগেন। জানা যায়, রাজ্যপাল গেহলট কংগ্রেস সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণের ১১টি অনুচ্ছেদ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন, যেগুলিতে ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (জিরামজি) আইন নিয়ে কেন্দ্রের সমালোচনা করা হয়েছিল। রাজ্যপালের মতে, ওই অংশগুলি রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ছিল।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বলেন, “যদি তারা বিজেপিকে সরাতে না পারে, তাহলে তারা এই দেশের মধ্যে নিরঙ্কুশ শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।” তার মতে, রাজ্যপালরা কেন্দ্রের অঙ্গ হিসাবে কাজ করছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে বিপন্ন করছে।

কংগ্রেসের এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে রাজ্যপাল ও বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তীব্র হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply