বেঙ্গালুরু, ২৯ নভেম্বর : কর্নাটক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার আজ সকালে একটি ‘ব্রেকফাস্ট মিটিং’য়ের পর মিডিয়ার সামনে একে অপরের প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেন। তাঁদের এই উদ্যোগে রাজনৈতিক মঞ্চে কোনোরকম বিভাজন নেই এবং ২০২৮ সালের নির্বাচনের দিকে তাদের মনোযোগী হওয়ার কথা পুনরায় নিশ্চিত করা হয়।
ব্রেকফাস্ট মিটিংয়ের পর, সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সিদ্ধারামাইয়া বলেন, “আমাদের মধ্যে কোন ধরনের অমিল ছিল না, এখনো নেই, ভবিষ্যতেও হবে না। আমরা একসঙ্গে আছি এবং একসঙ্গে কাজ করব।” শিবকুমারও তাঁর বক্তব্যে বলেন, “যে কথাই মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, আমি তার সঙ্গে একমত। দলীয় সিদ্ধান্তই আমাদের পথপ্রদর্শক।”
এদিনের মিটিংটি হয়েছিল এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক কেসি ভেনুগোপাল-এর নির্দেশে, যাতে মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তি দূর করা যায়। সিদ্ধারামাইয়া জানান, “আমরা ২০২৮ সালের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেছি, এবং ২০২৩ সালে দল যে বিজয় অর্জন করেছে, তার পরবর্তীতে স্থানীয় নির্বাচনে আমাদের কৌশলও নির্ধারণ করা হয়েছে।”
সিদ্ধারামাইয়া আরও বলেন, “বিজেপি ও জনতা দল (এস) একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করছে। তারা ৬০ এবং ১৮ আসনের দল, আমরা ১৪০ আসনের দল। তাদের মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে আমরা শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলব।”
ডিকে শিবকুমারও এই সময় বক্তব্য রাখেন এবং জানান, “আমরা সকলেই কংগ্রেসের প্রতি বিশ্বস্ত সৈনিক। কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে চলা আমাদের কর্তব্য। ২০২৮ সালের নির্বাচনে আমাদের একসঙ্গে কাজ করার অভিপ্রায় থাকবে।”
এদিনের মিটিংয়ের পর, শিবকুমার সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি সিদ্ধারামাইয়ার সঙ্গে বসে ব্রেকফাস্ট করছেন। ছবির ক্যাপশনে শিবকুমার লিখেন, “কর্নাটকের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি ফলপ্রসূ আলোচনা।”
এদিকে, কংগ্রেসের ভেতর একসময়কার শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের বিষয়টি নিয়ে পুনরায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২০২৩ সালের নির্বাচনে দলের বিজয়ের পর শিবকুমারের অনুগামীরা দাবি করছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হোক। কিন্তু, দুই নেতা একসঙ্গে রাজ্য এবং দেশের ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় নিবেদিত থাকার বার্তা দিয়েছেন।

