টিএমসির ‘ছাঁটাইকৃত অস্থায়ী কর্মীদের বিক্ষোভ, পুলিশ লাইনে অসুস্থ কয়েকজন

আগরতলা, ৮ নভেম্বর : ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজে স্পেশাল নার্সদের ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দীর্ঘ বছর ধরে হাসপাতালে বিনা নিয়োগে কাজ করা এক থেকে দেড় শতাধিক স্পেশাল নার্সকে শনিবার আচমকাই বরখাস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁরা কেউই হাসপাতালের নিয়মিত কর্মী নন এবং তাঁদের কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ বা সনদপত্র নেই। এরই প্রতিবাদে মিমি মজুমদার বাড়ির সামনে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন তাঁরা। ওই সময়ই পুলিশ তাঁদের আটক করে এডিনগর নিয়ে যায় বলে অভিযোগ।

জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে কাজল নামে এক সিকিউরিটি কর্মী নার্সদের জানান, তাঁরা যেন বাড়ি ফিরে যান। বিষয়টি নিয়ে তারা আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কোনও আশ্বাস পাননি। এরপর তাঁরা প্রাক্তন বিধায়িকা মিমি মজুমদারের বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন। মিমি মজুমদার তাঁদের সঙ্গে কথা বলার পর তাঁরা যখন বাড়ি ফিরছিলেন, ঠিক তখনই পুলিশ তাঁদের জোর করে আটক করে পুলিশ লাইনে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ।

আরও জানা গিয়েছে, পুলিশের আশঙ্কা ছিল যদি তাঁরা রাস্তায় অবস্থান নেন, তবে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় আটকে যেতে পারে। সেই কারণেই তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, এসময় তিনজন নারী অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাঁদের মধ্যে গীতা দেবনাথ নামে এক নারীর অবস্থা গুরুতর। অসুস্থ অবস্থায়ও পুলিশ তাঁদের গাড়ির মধ্যে প্রায় ৩০ মিনিট আটকে রাখে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে এই কাজের উপরই তাঁদের সংসার নির্ভরশীল। হঠাৎ এভাবে ছাঁটাই করা হলে তাঁদের জীবিকা বিপন্ন হবে। তাঁরা জানান, সরকার যদি এতটা অমানবিক আচরণ করে, তবে ভবিষ্যতে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন।

অন্যদিকে, হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওএসডি নন্দন সরকার জানিয়েছেন, যারা নিজেদের স্পেশাল নার্স বলে দাবি করছেন, তাঁরা আসলে হাসপাতালের কেউ নন। বহুবার তাঁদের সতর্ক করা সত্ত্বেও তাঁরা হাসপাতালে এসে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, এই নার্সদের কোনও প্রশিক্ষণ বা সার্টিফিকেট নেই। তারা রোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করত, এমনকি ওষুধ চুরি ও অন্যান্য অনৈতিক কাজে যুক্ত ছিল।

তিনি আরও জানান, যেহেতু তাঁরা হাসপাতালের কর্মী নন, তাই তাঁদের মৌখিকভাবেই বরখাস্ত করা হয়েছে। আগামী দিনে যোগ্যতা সম্পন্ন ও প্রশিক্ষিত নার্সদের নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার পর ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজের পরিবেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বরখাস্ত হওয়া নার্সরা সরকারের কাছে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।