কলকাতা, ১৭ অক্টোবর: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার অনেক আগেই প্রস্তুতি শুরু করে দিল নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই রাজ্য ও কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নির্দিষ্ট ভূমিকা চূড়ান্ত করবে নির্বাচন কমিশন।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালের দপ্তর ইতিমধ্যেই মোট ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে চিঠি পাঠিয়ে আগামী বছরের নির্বাচনের জন্য নোডাল অফিসারের নাম পাঠাতে বলেছে, যার সময়সীমা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রস্তাবিত নোডাল অফিসারদের নাম পেলে, আগামী নভেম্বর মাসে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সেই সংস্থাগুলোর নির্দিষ্ট ভূমিকা নির্ধারণ করবেন।
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নির্ধারণের এই প্রক্রিয়া সাধারণত নির্বাচন ঘোষণার পর ও আদর্শ আচরণবিধি চালু হওয়ার পরে শুরু হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনকে ঘিরে অতীতের অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য স্পর্শকাতর পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এবারে অনেক আগেই এই পদক্ষেপ নিচ্ছে কমিশন।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কমিশনের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে দুটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। প্রথমত, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ঘেঁষা রাজ্যের স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে আগেভাগেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের তরফ থেকে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে নগদ অর্থ, মদ কিংবা অন্যান্য উপকরণ বিতরণের উপর কঠোর নজরদারি চালানো হবে। এই দুই বিষয়ে বাড়তি সতর্কতাই কমিশনের প্রাথমিক ফোকাস।
এছাড়াও, রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ নিয়েও তৎপর হয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে যে কোনও সময় এসআইআরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই চলতি মাসের শুরুতে নির্বাচন কমিশনের একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল পশ্চিমবঙ্গে এসে এসআইআরের অগ্রগতি খতিয়ে দেখে গিয়েছে। সেই সময়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তরকে কড়া বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় কোনওভাবেই নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘন করা যাবে না। বিশেষ করে বুথ স্তরের অফিসার এবং ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার-দের নিয়োগের ক্ষেত্রে কমিশনের গাইডলাইন কঠোরভাবে মানতে হবে।
নির্বাচনের এত আগে থেকেই এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ রাখার উদ্দেশ্যেই, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

