সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: বিশেষ নিবিড় সংশোধন নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার, হস্তক্ষেপ নয়

নয়াদিল্লি, ৭ অক্টোবর: বিহারসহ পাঁচ রাজ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে, দেশের সর্বোচ্চ আদালত মঙ্গলবার জানিয়েছে—এই সংশোধন প্রক্রিয়া পরিচালনা করা পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানায়, কমিশনকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া মানেই হবে হস্তক্ষেপ।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সুর্য কান্ত ও জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করে বলেন,”আপনারা কেন আমাদের সব কাজ নিজেরা করতে বলছেন? এসআইআর পরিচালনা করা নির্বাচন কমিশনের একচেটিয়া এখতিয়ার। আমরা যদি হস্তক্ষেপ করি, সেটি কমিশনের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল হবে।”

আদালত এই মন্তব্য করে যখন নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন করা হয়, তারা বিহার ছাড়াও বাকি পাঁচ রাজ্যে কখন এসআইআর পরিচালনা করবে। এছাড়া আদালত কমিশনকে ৩.৬৬ লাখ ভোটার নাম কর্তনের ও ২১ লাখ নতুন নাম অন্তর্ভুক্তির তথ্য-উপাত্ত প্রস্তুত করতে বলেছে, যা খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ঘটেছে।

কংগ্রেস নেতা ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আদালতে দাবি করেন,
“যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে কাটা হয়েছে, তাদের একটিকেও কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। কোনো কারণ জানানো হয়নি। আপিল করার সুযোগ থাকলেও, তথ্য না থাকায় আপিলের প্রশ্নই ওঠে না।”

আরও একটি মামলাকারী সংস্থা, অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস-এর পক্ষে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ জানান, “৪৭ লক্ষ ভোটারের নাম সরানো হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়া সমস্যা সমাধান তো করেনি, বরং সমস্যা আরও বাড়িয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “কমিশনের স্বচ্ছতার অভাব প্রকট। প্রায় ৬৫ লক্ষ নাম কাটা হলেও তা আদালতের নির্দেশ ছাড়া প্রকাশ পায়নি। কমিশন নির্দেশিকা অনুযায়ী ওয়েবসাইটে এই তথ্য আপলোড করেনি।”

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন ২০০৩ ও ২০১৬ সালে জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল কীভাবে ভুয়া ভোটার অপসারণ করতে হবে এবং কীভাবে এসআইআর পরিচালিত হবে। তবে সাম্প্রতিক অভিযানে সেই নির্দেশিকা যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।

সুপ্রিম কোর্ট আগামী শুনানিতে এ বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে।