নির্বাচন কমিশনের ডাক ব্যালট গণনার পদ্ধতিতে আরও স্বচ্ছতা ও গতি আনতে নতুন উদ্যোগ

নয়াদিল্লি, ২৫ সেপ্টেম্বর : নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া ভোট গণনার পদ্ধতিকে আরও স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী করতে ডাক ব্যালট গণনা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি কমিশনের গত ছয় মাসে গৃহীত ৩০তম সংস্কারমূলক পদক্ষেপ। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, এখন থেকে যেসব গণনা কেন্দ্রে ডাক ব্যালট গণনা হবে, সেখানে ইভিএম/ভিভিপ্যাট-এর শেষ পূর্ববর্তী রাউন্ডের গণনা শুরু হবে শুধুমাত্র ডাক ব্যালট গণনা সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই। কমিশনের মতে, এই নতুন নিয়মের ফলে ফলাফল ঘোষণায় স্বচ্ছতা আসবে এবং কোনও রকম বিভ্রান্তি এড়ানো যাবে।

কমিশন জানিয়েছে, প্রতিবন্ধী এবং ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ভোটারদের জন্য হোম ভোটিংয়ের সুযোগ চালু হওয়ায় সাম্প্রতিককালে ডাক ব্যালটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও সাধারণভাবে ডাক ব্যালট গণনা ইভিএমের আগেই শেষ হয়, তবে সার্বিক প্রক্রিয়ায় ঐক্যতা এবং নির্ভরযোগ্যতা আনতেই এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কমিশন রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দিয়েছে, বেশি সংখ্যক ডাক ব্যালটের ক্ষেত্রে গণনার জন্য যথেষ্ট সংখ্যক টেবিল ও গণনা কর্মী নিশ্চিত করতে হবে, যেন প্রক্রিয়ায় কোনও বিলম্ব না ঘটে।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন গত ছয় মাসে ভোটারদের সুবিধা, প্রযুক্তির ব্যবহার, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ, ভোটার তালিকার বিশুদ্ধতা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণে মোট ২৯টি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বুথে মোবাইল জমার ব্যবস্থা, বুথে ভোটারের সংখ্যা নির্ধারণ, রঙিন ছবি সহ ইভিএম, ৮০৮টি অচল রাজনৈতিক দল বাতিল, ৪,৭০০-এর বেশি সর্বদলীয় বৈঠক, ‘ইসিনেট’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু, ১০০% বুথ ওয়েবকাস্টিং, বিহারে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ভোটার কার্ড সরবরাহের জন্য এসএমএস-সহ দ্রুত ডেলিভারি ব্যবস্থা।

নতুন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ডাক ব্যালট গণনার কার্যক্রম আরও সুনির্দিষ্ট ও ফলপ্রসূ হবে বলে কমিশন আশাবাদী। একই সঙ্গে গণনার গতিশীলতা বজায় থাকবে এবং ফলাফল প্রকাশে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।