নয়াদিল্লি, ২২ সেপ্টেম্বর : নতুন প্রজন্মের জিএসটি সংস্কার –কে দেশের প্রতিটি পরিবারের জন্য আনন্দ ও সাশ্রয়ের উৎস বলে উল্লেখ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ। একাধিক পোস্টে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ তিনি জানান, “নবরাত্রির এই শুভদিনে, মোদী সরকার দেশের সমস্ত মা-বোনদের জন্য নেক্সটজেন জিএসটি সংস্কারের উপহার এনেছে।” তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের জনতার প্রতি যে জিএসটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা আজ থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।
অমিত শাহ জানান, এই ঐতিহাসিক জিএসটি সংস্কারের ফলে ৩৯০টিরও বেশি পণ্যের উপর কর হ্রাস করা হয়েছে। খাদ্যসামগ্রী, গৃহস্থালির ব্যবহার্য জিনিসপত্র, নির্মাণ সামগ্রী, কৃষি সরঞ্জাম, অটোমোবাইল, সেবা ক্ষেত্র, খেলনা, ক্রীড়া সামগ্রী, হস্তশিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিমা খাতে জিএসটি কমিয়ে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি আসবে এবং সঞ্চয় বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, “নেক্সটজেন জিএসটি সংস্কার আত্মনির্ভর ভারতের সংকল্পকে বাস্তবায়নের পথে একটি বড় পদক্ষেপ। মোদীজির আহ্বানে স্বদেশী পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে আমরা সবাই আত্মনির্ভরতার যাত্রায় অংশ নিতে পারি।” কৃষি, স্বাস্থ্য, বস্ত্র ও ম্যান-মেড ফাইবার ইন্ডাস্ট্রির উপর জিএসটি হ্রাস করে দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
শ্রী শাহ বলেন, মোদী সরকার মধ্যবিত্তদের আয় বৃদ্ধি ও সঞ্চয়ের সুযোগ বাড়াতে নেক্সটজেন জিএসটি সংস্কারের মাধ্যমে একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস, স্বাস্থ্যসেবা সামগ্রী, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি এবং শিক্ষাবিষয়ক পণ্যের উপর জিএসটি হ্রাসের ফলে মধ্যবিত্তদের ব্যয় কমবে এবং হাতে থাকা অর্থ বা নিষ্পত্তিযোগ্য আয় বৃদ্ধি পাবে, যা সঞ্চয় ও বিনিয়োগে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, “এই সংস্কার মোদীজির দরিদ্র, যুবসমাজ, কৃষক এবং নারীদের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত শতাধিক পণ্যের উপর কর হ্রাসের ফলে এদের ব্যয় কমবে এবং ভারতের অর্থনৈতিক চাকা আরও গতিশীল হবে। আত্মনির্ভর ভারতের পথে এটি একটি দৃঢ় পদক্ষেপ।”
জিএসটি সংস্কারে নানা দিক তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বহু দুগ্ধজাত পণ্যের উপর এখন জিএসটি শূন্য। সাবান, টুথব্রাশ, টুথপেস্ট, চুলের তেল ও শ্যাম্পুর মতো প্রতিদিনের ব্যবহার্য সামগ্রীর উপর অভূতপূর্ব হারে কর কমানো হয়েছে।” একইসঙ্গে তিনি জানান, “লাইফ ইন্স্যুরেন্স, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, প্রবীণদের জন্য বিমা পলিসি, ৩৩টি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও ডায়াগনস্টিক কিটের উপর শূন্য জিএসটি চালু হয়েছে। অক্সিজেন, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি, চিকিৎসা, দাঁতের চিকিৎসা এবং পশুচিকিৎসার যন্ত্রপাতির উপর এখন ন্যূনতম জিএসটি।”
তিনি বলেন, কৃষি সরঞ্জাম ও সার শিল্পে জিএসটি হ্রাসে কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। একইভাবে, গাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও মানুষ এখন আর অতিরিক্ত খরচ নিয়ে ভাববেন না। এই সংস্কারের ফলে উৎপাদন বাড়বে, স্বদেশী শিল্প লাভবান হবে এবং দেশময় স্বনির্ভরতার জোয়ার বইবে।
শেষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশবাসীকে আহ্বান জানান, “আপনারাও দৈনন্দিন জীবনে স্বদেশী পণ্য ব্যবহার করুন এবং প্রতিটি পরিবারকে আত্মনির্ভরতার প্রতীক করে তুলুন। আত্মনির্ভর ভারত গড়ার স্বপ্নে আপনাদের অংশগ্রহণই হবে সবচেয়ে বড় অবদান।”

