বাংলাদেশে মার্কিন ফৌজ, যৌথ মহড়া নাকি গোপন ঘাঁটি?

জাকির হোসেন, ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর: শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই বদলাচ্ছে ঢাকার কূটনৈতিক সমীকরণ। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার পর থেকেই মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আমেরিকার ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে। এর মধ্যেই ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অবতরণ করেছে মার্কিন স্থল ও বিমানবাহিনীর প্রায় ১২০ জন সেনা। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তাঁরা চট্টগ্রামে নামেন। শহরের রেডিসন ব্লু হোটেলে ৮৫টি ঘর বুক করে থাকার ব্যবস্থা করা হলেও, অভিযোগ উঠেছে, সেনাদের নাম হোটেল রেজিস্টারে নথিভুক্ত করা হয়নি। কেন এই গোপনীয়তা— প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহল।
বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর তথা আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক মহড়ার সমাপনী অনুষ্ঠান হয়েছে ১৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের বিমান ঘাঁটি জহুরুল হকে। ছ’দিনের এই মহড়ায় অংশ নেয় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি সি-১৩০ জে পরিবহন বিমান, একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার, মার্কিন প্যাসিফিক এয়ারফোর্সের দুটি সি-১৩০ জে বিমান, ১৫০ জন বাংলাদেশি সেনা ও ৯২ জন মার্কিন সেনা। সেনা-নৌ বাহিনীর সদস্যেরাও যোগ দেন। লক্ষ্য— প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো, যৌথ কৌশলগত সহযোগিতা ও আন্তঃকার্যক্ষমতা উন্নয়ন।
তবে এ মহড়া ঘিরে নিশ্চয়ই নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে নয়াদিল্লিতে। কারণ, চট্টগ্রামের কাছেই রয়েছে কৌশলগত সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। শেখ হাসিনা দাবি করেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওই দ্বীপে ঘাঁটি চাইছিল। তিনি রাজি না হওয়াতেই তাঁর পতন ঘটে। অন্যদিকে ইউনূস সরকারের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক দিনে দিনে আরও উষ্ণ হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো কিছু ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, মার্কিন সেনারা সেন্ট মার্টিনের দিকেই এগোচ্ছে। সেখানেই ঘাঁটি তৈরি হবে কি না, তা নিয়েই শঙ্কা।
এই পরিস্থিতিতে চিনও নেপথ্যে সক্রিয়। মায়ানমারের জুন্টার সঙ্গে ঘাঁটি তৈরির আলোচনা করছে বেজিং। শিলিগুড়ির চিকেন নেকের কাছে বাংলাদেশে ঘাঁটি তৈরির সম্ভাবনাও আলোচনায়। ফলে বাংলাদেশে মার্কিন ফৌজের আগমন ও ইউনূস সরকারের অবস্থান, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের নিরাপত্তা অঙ্ককে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল।