রাজস্থান: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আজমেরে ‘সেভেন ওয়ান্ডার্স পার্ক’ ভাঙার কাজ শুরু

আজমের, ১২ সেপ্টেম্বর: রাজস্থানের আজমের শহরের অনাসাগর জলাভূমি এলাকায় তৈরি হওয়া ‘সেভেন ওয়ান্ডার্স পার্ক’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ আজ, শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। আজমের ডেভেলপমেন্ট অথরিটি জলাভূমিতে অবৈধ দখল বলে ঘোষিত এই নির্মাণগুলি সরিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমস্ত নির্মাণ ভেঙে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল প্রশাসন এবং সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই আজকের এই পদক্ষেপ।

রাজস্থানের আজমের শহরের অনাসাগর জলাভূমি এলাকায় নির্মিত ‘সেভেন ওয়ান্ডার্স পার্ক’ ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। ২০২২ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট ₹১২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই পার্কের উদ্বোধন করেন। আজমের স্মার্ট সিটি প্রকল্পের অধীনে নির্মিত এই পার্কে ছিল বিশ্বের সাতটি আশ্চর্যের ক্ষুদ্র সংস্করণ—তাজ মহল, আইফেল টাওয়ার, মিশরের পিরামিড, পিসার হেলানো মিনার, রোমান কলোসিয়াম, স্ট্যাচু অফ লিবার্টি এবং ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার।

এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে প্রাক্তন বিজেপি কাউন্সিলর অশোক মালিক ২০২৩ সালের ১১ মার্চ ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনালে (NGT) একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। তিনি অভিযোগ করেন, অনাসাগর হ্রদের চারপাশের জলাভূমিতে গড়ে ওঠা এই নির্মাণগুলি পরিবেশগতভাবে মারাত্মক ক্ষতিকর এবং মাস্টার প্ল্যান লঙ্ঘন করেছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট NGT নির্দেশ দেয়, সেভেন ওয়ান্ডার্স পার্ক সহ পার্শ্ববর্তী পটেল স্টেডিয়াম, গান্ধী স্মৃতি উদ্যান ও ফুড কোর্ট ভেঙে ফেলতে।

এই নির্দেশের বিরুদ্ধে আজমের ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (ADA) ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। কিন্তু আদালত প্রশ্ন তোলে কেন NGT-এর নির্দেশ মানা হয়নি। পরবর্তীতে ADA ছয় মাস সময় চেয়ে একটি হলফনামা জমা দেয়, যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫। সেই সময়সীমার আগেই আজ থেকে ভাঙচুর শুরু হয়েছে।

২০২৫ সালের মার্চে এক শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কঠোর ভাষায় মন্তব্য করে, “আপনাদের কাজকর্ম দেখে মনে হচ্ছে না যে আপনারা আজমেরকে স্মার্ট করতে চান। জলাশয় রক্ষা না করে শহর কীভাবে স্মার্ট হবে? জলাভূমি দখল করে শহর স্মার্ট হয় না।”

উল্লেখযোগ্য যে স্মার্ট সিটি প্রকল্পের দায়িত্বে একাধিক আইএএস অফিসার ছিলেন—সিইও, জেলা শাসক, পৌর কমিশনার এবং ADA কমিশনার হিসেবে। তবুও, এখনও পর্যন্ত এই অনিয়মের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে দায়ী করা হয়নি। আজকের ভাঙচুর চলাকালীন প্রশাসন মিডিয়ার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং এলাকায় কড়া পুলিশ মোতায়েন করে শান্তি বজায় রাখে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠছে, স্মার্ট সিটি প্রকল্পের নামে পরিবেশ ধ্বংস এবং দায়িত্বহীনতার পরিণতি শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে। অনাসাগর হ্রদের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা হয়তো এই ধ্বংসকার্য দ্বারা সম্ভব হবে, কিন্তু এর মাধ্যমে প্রশাসনিক পরিকল্পনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।