নয়াদিল্লি, ৮ আগস্ট : কেন্দ্রীয় সরকার শুক্রবার লোকসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আয়কর বিল, ২০২৫’ প্রত্যাহার করে নিল। চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি লোকসভায় ওই বিলটি ছয় দশক পুরনো আয়কর আইন, ১৯৬১-এর স্থলাভিষিক্ত করার লক্ষ্যে পেশ করা হয়েছিল।
সরকার সূত্রে জানানো হয়েছে, বহু সংস্করণের মধ্যে বিভ্রান্তি এড়াতে এবং সংসদ সদস্যদের একটি একত্রিত, সংশোধিত খসড়া সরবরাহ করার জন্যই বিলটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। আগামী সোমবার ১১ আগস্ট লোকসভায় এই বিলের একটি নতুন সংস্করণ পেশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অধিকাংশ সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত
বিজেপি সাংসদ বৈজয়ন্ত পাণ্ডার নেতৃত্বাধীন ৩১ সদস্যের সিলেক্ট কমিটির বেশিরভাগ সুপারিশ নতুন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে। এদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হল, ধর্মীয়-চ্যারিটেবল ট্রাস্টের কাছে আসা অজ্ঞাত দান করমুক্ত থাকবে। তবে যেসব ট্রাস্ট ধর্মীয় কাজের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতাল চালায়, তারা ওই অজ্ঞাত দানের ওপর কর দিতে বাধ্য থাকবে।
শুক্রবার লোকসভায় বিহারে চলমান ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে দিনের কার্যসূচি স্থগিত করা হয়। তবে তার আগে, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন পূর্ববর্তী ‘আয়কর বিল, ২০২৫’ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন এবং অধ্যক্ষের অনুমোদন অনুযায়ী তা প্রত্যাহার করেন।
সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেন, সরকার সব বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু বিরোধীরা গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করছে। আজ প্রাইভেট মেম্বার বিল তোলার দিন ছিল, অথচ তারা তা হতে দিচ্ছে না। পরে যেন কেউ না বলে, সরকার সহযোগিতা করেনি।
নতুন আয়কর বিল অনুযায়ী, করদাতারা নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও পেনাল চার্জ ছাড়াই টিডিএস রিফান্ড দাবি করতে পারবেন, এমন একটি প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কমিটির সুপারিশ অনুসারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ফেব্রুয়ারিতে পেশ হওয়ার পরই বিলটি সিলেক্ট কমিটির পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেই প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সরকার এটিকে আরও পরিশোধিত করে নতুন সংস্করণে রূপান্তর করেছে।
১১ আগস্ট সোমবার লোকসভায় নতুন আয়কর বিল পেশ করা হবে। সরকার আশা করছে, এই সংস্করণটি সংসদের সমর্থন পাবে এবং দেশের কর ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটবে।



















