ছত্তিশগড়ে ৫১২ কোটি টাকার জিএসটি জালিয়াতিতে কয়লা ব্যবসায়ী গ্রেফতার

মারওয়াহী(ছত্তিশগড়), ৩ জুলাই : ৫১২ কোটি টাকার বিপুল জিএসটি জালিয়াতি মামলায় ছত্তিশগড়ের মারওয়াহী এলাকা থেকে কয়লা ব্যবসায়ী জাফর শেখকে গ্রেফতার করল মধ্যপ্রদেশ ইকোনমিক অফেন্সেস উইং(ইওডব্লিউ)। ভুয়ো কয়লা লেনদেন এবং একাধিক জাল সংস্থার মাধ্যমে আর্থিক তছরুপের মামলায় এই গ্রেফতারিকে একটি বড়সড় সাফল্য হিসেবে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।

ভোপাল থেকে আসা সাত সদস্যের একটি ইওডব্লিউ টিম বুধবার সকালে মারওয়াহীতে শেখের বাসভবনে হানা দিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভোপাল নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, শেখ জাল ইনভয়েস তৈরি করে এবং বিভিন্ন সংস্থার নামে ভুয়ো কয়লা সরবরাহ দেখিয়ে বিপুল জিএসটি ক্রেডিট দাবি করেন। এই সংস্থাগুলির অধিকাংশই মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে রেজিস্টার থাকলেও বাস্তবে সেগুলি আন্তঃরাজ্য ভিত্তিতে পরিচালিত হত।

এই কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্ত বিনোদ কুমার সাহাকে এর আগেই ঝাড়খণ্ডের রাঁচি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, সাহার তৈরি নেটওয়ার্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন জাফর শেখ। তদন্তে উঠে এসেছে, কয়লার কোনও প্রকৃত সরবরাহ ছাড়াই শিল্প সংস্থাগুলিকে জাল বিল পাঠানো হত। নেই কোনও পরিবহন রেকর্ড, গুদামজাত তথ্য বা ডেলিভারি রসিদ। ভোপালে দায়ের হওয়া এজাহারে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই জালিয়াতির জন্য ২৩টিরও বেশি শেল কোম্পানি ও প্রায় ১৫০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছিল। এভাবে ভুয়ো আর্থিক লেনদেন দেখিয়ে জিএসটি রিফান্ড তোলা ও অর্থ পাচারের কাজ চলত কয়লা ব্যবসার আড়ালে। মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং মহারাষ্ট্রে কয়লা ব্যবসা ও কর দফতরে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে এই কেলেঙ্কারি। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, এর সঙ্গে আরও অনেক সংস্থা ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক জড়িত থাকতে পারেন।

শীঘ্রই এই মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তদন্তে যুক্ত হতে পারে বলে সূত্রের খবর। আরও গ্রেফতারির সম্ভাবনা রয়েছে। ইওডব্লিউ-এর এক শীর্ষ কর্তা বলেন, এটি সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে বড় জিএসটি জালিয়াতির ঘটনা, যা আন্তঃরাজ্য পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার ওপর বড় চ্যালেঞ্জ। তদন্তকারী সংস্থা আরও বেশ কয়েকজন কয়লা ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নজরবন্দি করেছে। তদন্ত এখন দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে।