News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • ত্রিপুরায় বিকশিত কৃষি সংকল্প অভিযানে লক্ষ্য অতিক্রম, ৩৪% অংশগ্রহণকারী নারী কৃষক : রতন লাল নাথ
Image

ত্রিপুরায় বিকশিত কৃষি সংকল্প অভিযানে লক্ষ্য অতিক্রম, ৩৪% অংশগ্রহণকারী নারী কৃষক : রতন লাল নাথ

আগরতলা, ১৩ জুন : ত্রিপুরা রাজ্যে বিকশিত কৃষি সংকল্প অভিযান নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। রাজ্যজুড়ে ১,৯৫,২৬৩ জন কৃষকের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে এই অভিযান, যার মধ্যে ৬৬,৮৯৯ জন অর্থাৎ প্রায় ৩৪ শতাংশ ছিলেন নারী কৃষক। এটি প্রাথমিক লক্ষ্য ১.৭২ লক্ষের চেয়ে অনেক বেশি।

আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতন লাল নাথ জানান, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে আসামের পরেই ত্রিপুরা এই অভিযানের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সংখ্যক কৃষকের কাছে পৌঁছেছে। এটি রাজ্যের কৃষি খাতের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন সাফল্য।

মন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্ন হল কৃষিকে আধুনিক, সৃজনশীল ও স্থিতিশীল ব্যবস্থার অধীনে এনে ভারতকে বিশ্বের শস্য ব্যাংকে পরিণত করা। কৃষির উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য কেন্দ্র সরকার ‘এক দেশ, এক কৃষি, এক ধারণা’ নীতিতে কাজ করছে।”

তিনি জানান, ২৯ মে থেকে ১২ জুন পর্যন্ত চলা এই অভিযানে দেশজুড়ে ২,১৭০টি কৃষি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রায় ১৬,০০০ কৃষি বিজ্ঞানী অংশ নেন। অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বার্তা ৭০০টি জেলার ১.৫ কোটি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। পাশাপাশি ১.৪৫ কোটি মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি সুরক্ষা, কৃষকের আয় বৃদ্ধি, এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যও নির্ধারিত হয়।

অভিযানটি ছয়টি মূল পরিকল্পনার উপর ভিত্তি করে শুরু হয়: কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ হ্রাস, ন্যায্য দাম নিশ্চিতকরণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, ফসল বৈচিত্র্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে উৎসাহ প্রদান এবং প্রাকৃতিক ও জৈব কৃষির প্রসার।

মন্ত্রী নাথ জানান, রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ৩টি করে বিশেষজ্ঞ দল গঠিত হয়, যারা প্রতিদিন ৩টি করে কৃষক সভা করেন। ফলে প্রতিটি জেলায় গড়ে ১০৮টি সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্যের ৮টি জেলায় মোট ৯৫৬টি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এই সভাগুলিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, বৈজ্ঞানিক কৃষি, পশুপালন, মৎস্যচাষ, মৃত্তিকা স্বাস্থ্য পরীক্ষা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিটি সভায় কমপক্ষে ২০০ জন কৃষক, এফপিও, এফপিসি ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

নাথ জানান, “এই ১৫ দিনে কৃষি আধিকারিক ও বিজ্ঞানীরা রাজ্যজুড়ে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এবং তাদের পরামর্শ গ্রহণ করেছেন। সেই মতামতের ভিত্তিতে রাজ্যের কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশ ইতিমধ্যে সবুজ বিপ্লব, সাদা বিপ্লব ও নীল বিপ্লব প্রত্যক্ষ করেছে। বর্তমানে চলছে হলুদ বিপ্লব, এবং শিগগিরই শুরু হবে ‘মিষ্টি বিপ্লব’। মৌচাষের মাধ্যমে মধু উৎপাদনে স্বনির্ভরতা আনতে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া হবে।”

খরিফ মৌসুম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “ত্রিপুরায় ২.০১ লক্ষ হেক্টর জমিতে খাদ্যশস্য উৎপন্ন হয়। এই অভিযানের ফলে বৈজ্ঞানিক কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রতি হেক্টরে ৫০০ কেজি করে উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হলে, এই বছর রাজ্যে খাদ্যশস্য উৎপাদন ১ লক্ষ মেট্রিক টন পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। তবেই এই অভিযানের আসল লক্ষ্য পূরণ হবে।”

Releated Posts

ত্রিপুরার ৭.৭৫ কোটি টাকার চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে সঞ্জিত চক্রবর্তী গ্রেফতার, সিবিআইয়ের বড় সাফল্য

নয়াদিল্লি, ১৩ মে : ত্রিপুরার বহুচর্চিত চিটফান্ড কেলেঙ্কারির মামলায় বড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। প্রায় ৭.৭৫…

ByByTaniya Chakraborty May 13, 2026

নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস কাণ্ড ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাসে কালো অধ্যায় : যুব কংগ্রেস

আগরতলা, ১৩ মে : নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস কাণ্ড ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাসে কালো অধ্যায়। নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায়…

ByByTaniya Chakraborty May 13, 2026

ত্রিপুরায় এলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও উপ-মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক

আগরতলা, ১৩ মে: রাজ্যে এলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এবং উত্তর প্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক। মঙ্গলবার মহারাজা বীর…

ByByReshmi Debnath May 13, 2026

ভুটান সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন সাংসদ বিপ্লব

আগরতলা, ১৩ মে: ভারতীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে ভুটান সফরে গিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন পশ্চিম ত্রিপুরার সাংসদ বিপ্লব…

ByByReshmi Debnath May 13, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top