নয়াদিল্লি, ৩০ মে : দিল্লি হাই কোর্ট শুক্রবার এক অন্তর্বর্তী আদেশে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে সদগুরু—প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক গুরু ও ইশা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতার নাম, ছবি ও ব্যক্তিত্বের অপব্যবহারে তৈরি ভুয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডক্টরড কনটেন্ট ইন্টারনেট থেকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছে।
সদগুরু আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁর ‘ব্যক্তিত্বের অধিকার’ রক্ষার দাবিতে। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর জনপ্রিয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া অডিও, ভিডিও এবং ছবি ছড়িয়ে পড়ছে, যা বিভিন্ন পণ্য বিক্রয় ও সাবস্ক্রিপশন বাড়াতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সদগুরুর আইনজীবী আদালতে বলেন, “তিনি একজন সম্মানীয় ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি। অথচ কিছু অসাধু ওয়েবসাইট এআই-এর মাধ্যমে তাঁর নাম ও পরিচিতি বাণিজ্যিকভাবে অপব্যবহার করছে।” তিনি আরও জানান, সদগুরুর ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে—যা সম্পূর্ণ প্রতারণা।
আদালতে গুগলের আইনজীবী জানান, সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের লিংক রিপোর্ট করলে তারা ব্যবস্থা নেয়। তিনি বলেন, “ওনি (সদগুরুর পক্ষ) আমাকে লিংক পাঠাতে পারেন। আমি যদি দেখি বিষয়টি প্রকৃত, তাহলে তা সরিয়ে দেব। তবে যদি সন্দেহ থাকে, তখন তাঁকে জানিয়ে আদালতের নির্দেশ গ্রহণ করব।”
সকল পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সৌরভ ব্যানার্জির বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিকে সদগুরুর নাম, ছবি ও ব্যক্তিত্ব অপব্যবহার করে তৈরি কনটেন্ট অবিলম্বে সরাতে নির্দেশ দেয়। আদেশের পূর্ণাঙ্গ কপি এখনও দিল্লি হাই কোর্টের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়নি।
এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে ইশা ফাউন্ডেশন এক্স-এ এক পোস্টে জানায়, “এই প্রতারণাগুলির মধ্যে রয়েছে ভুয়া এআই-নির্মিত ভিডিও, বিকৃত ছবি, যেমন সদগুরুর গ্রেপ্তারের মিথ্যা খবর, এবং মিথ্যা বিনিয়োগ-প্রচার। ইশা ফাউন্ডেশন সক্রিয়ভাবে এই ধরনের ভুয়া কনটেন্ট সরাতে এবং সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে পড়া থেকে রক্ষা করতে কাজ করে যাচ্ছে।”

