করিমগঞ্জ (অসম), ১০ অক্টোবর (হি.স.) : গতকাল মহাষষ্ঠীর দিন করিমগঞ্জের বাগারগুলে মনসাঙ্গন মাদ্রাসার কতিপয় ছাত্র দুর্গা প্রতিমার ওপর রান্না করা ভাত ছুঁড়ে মেরেছিল। ঘটনার পর পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে। তবে করিমগঞ্জ পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে তদন্তে নামে। তদন্তে নেমে আজ বৃহস্পতিবার ওই এলাকা থেকে মাদ্রাসার দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের হাতে ধৃত দুই দুর্বৃত্তকে রহিমপুর এলাকার ফখর উদ্দিনের ছেলে সাবুল আহমেদ (২৪) এবং আব্দুল আহাদ (১৮) বলে পরিচয় পাওয়া গেছে।
পূলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সঙ্গে কোনও তৃতীয় শক্তি জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছেন পুলিশ সুপার পার্থপ্রতিম দাস নিজে। দুই ধৃত দুর্বৃত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
মূলত ঘটনা গতকাল মহাষষ্ঠীর দিন সংগঠিত হয়েছে। স্থানীয় একটি ক্লাবের সদস্যরা কালিগঞ্জ থেকে দুর্গা প্রতিমা নিয়ে তাঁদের মণ্ডপে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় মনসাঙ্গনের মাদ্রাসা থেকে রান্না করা ভাত দিয়ে ঢিল ছুঁড়ে জনৈক ছাত্র। তবে আয়োজকরা সেখানে না দাঁড়িয়ে মূর্তি নিয়ে বাগারগুলে চলে যাওয়ার পর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়।
সংগঠিত ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন লোকজন। বছরের পর বছর ধরে এলাকায় পূজা হয়ে আসছে। কিন্তু এ রকম কোনও ঘটনা ঘটেনি। উচ্ছিষ্ট ভাত দিয়ে মূর্তিকে অপবিত্র করা হয়েছে বলে আয়োজকরা প্রথমে পূজা না করার সিদ্ধান্ত নেন। ইত্যবসরে ঘটনার খবর যায় পুলিশ সুপার পার্থপ্রতিম দাসের কাছে। খবর পান উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থও। বিধায়ক সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার নজরে নেন। কথা বলেন, ডিজিপি জিপি সিঙের সঙ্গে।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিধায়ক সঙ্গে সঙ্গে বাগারগুল গিয়ে পৌঁছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আর্জি জানান বিধায়ক। দুর্গামূর্তির ওপর যারা ভাত ছুঁড়ে মেরেছে, বা কারা এ সব করতে ইন্ধন জুগিয়েছে, সেই মাস্টারমাইন্ডদের গ্রেফতার করার দাবি জানান স্থানীয়রা। বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ স্থানীয়দের আশ্বস্ত করে বলেন, বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া নতুন মূর্তি দিয়ে পূজা করতে ক্লাব কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে সাহায্যও করেন বিধায়ক। পূজা চালিয়ে যেতে প্রয়োজনে আরও টাকা দেবেন বলে আয়োজকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
এদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল বাগারগুল গ্রামে ছুটে যান করিমগঞ্জের জেলাশাসক প্রদীপকুমার দ্বিবেদী, পুলিশ সুপার পার্থপ্রতিম দাস। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কোনওভাবে নিস্তার দেওয়া হবে না বলে স্থানীয়দের কাছে অঙ্গীকার করেন জেলার শীর্ষ দুই প্রশাসনিক আধিকারিক। সেই সঙ্গে এলাকায় শান্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে পরামর্শ দেন পুলিশ সুপার ও জেলাশাসক।
দুর্গাপূজার সময় পরিস্থিতি যাতে কোনও ভাবে অশান্ত না হয় তার জন্য রাতেই আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয় এলাকায়। আর পরের দিন আজ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে ওই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড কে, বা কী উদ্দেশ্য ছিল দুর্বৃত্তদের, তার খোঁজে রয়েছে পুলিশ।



















