ঝাঁসিতে পুরোহিতকে পাথর দিয়ে থেতলে খুন, উদ্ধার নিথর দেহ

ঝাঁসি, ১৫ জানুয়ারি (হি.স.) : উত্তর প্রদেশের ঝাঁসির বড়ুয়াসাগরের কৈলাস পর্বতে মন্দিরের পুরোহিতকে পাথর দিয়ে থেতলে খুন করা হয়েছে। খুনের পর দুষ্কৃতীরা পুরোহিতের দেহ কিছুদূর টেনে মন্দিরের পেছনে পাতা দিয়ে ঢেকে রাখে। রবিবার গভীর রাতে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করলে তারপর ঘটনাটি জানা যায়। এরপর পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ মৃতদেহ ঝাঁসি মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এসএসপি মামলা নথিভুক্ত করে অভিযুক্তদের খোঁজ শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, মৃত পুরোহিতের নাম কৈলাশ যোশি। তিনি শহরের কৈলাস পর্বতে নির্মিত মন্দিরে ৪০ বছর ধরে পুরোহিত ছিলেন। তার ছেলে জানান, ‘বাবা সকাল-সন্ধ্যা বাড়িতে খাবার খেতে আসতেন এবং বাকি সময় মন্দিরে থাকতেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়িতে রাতের খাবার খেয়ে মন্দিরে যান তিনি। শনিবার তাকে কেউ দেখেনি। তিনি বাড়িতেও খাবার খেতে আসেননি। তখন মনে হয় বাবা নিশ্চয়ই মন্দিরে রান্না করেছেন। রবিবার এলাকার লোকজন মন্দিরে গেলে বাবাকে সেখানে দেখা যায়নি। তিনি যে ঘরে থাকতেন সেটিও খোলা ছিল। খবর পেয়ে আমরা সন্ধ্যায় মন্দিরে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করি। এরপর মন্দিরের পেছনে বাবার দেহ পাওয়া যায়। মুখমণ্ডলসহ বিভিন্ন স্থানে পাথর দিয়ে থেতলে তাকে খুন করা হয়। এরপর মৃতদেহটিকে প্রায় ৫০ মিটার টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। এই বিষয়ে পুলিশকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।‘

খুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন এসএসপি রাজেশ এস, এসপি সিটি জ্ঞানেন্দ্র কুমার সিং এবং অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা। মৃত কৈলাশের ছেলে রবীন্দ্র যোশী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কিছু লোক পাহাড়ে জুয়া খেলতে ও মদ খেতে আসত। বাবা তাকে নিষেধ করতেন। সম্ভবত সে ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে। গভীর রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে এসএসপি রাজেশ এস বলেন, পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি হত্যা খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে।