নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কাঞ্চনপুর, ৭ জানুয়ারি : সরকারি মূল্য থেকে খোলা বাজারে ধানের দাম বেশি। ঘরে বসেই মিলছে ক্রেতা। তাই সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রিতে অনীহা দেখাচ্ছেন কৃষকরা। ফলে প্রচারে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে রাজ্য সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সহায়ক মূল্যে উৎপাদিত ধান কেনার প্রচেষ্টা তলানিতে ঠেকছে। খবর নিয়ে জানা যায় খোলা বাজারে কৃষকরা সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্য পেয়ে পাইকারদের কাছে ধান বিক্রি করছেন।
তাই রাজ্য সরকারের সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয়ের বিষয়ে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না কৃষকরা। যার ফলে সরকারি ভাবে ধান কেনার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল তার ধারে কাছেও যাচ্ছে না । উত্তর জেলার এক সরকারি আধিকারিক জানান কৃষকরা সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি তেমন উৎসাহ দেখাচ্ছেন না। যদিও দপ্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে জনমনে প্রশ্ন খোলা বাজারে ধানের দাম বেশি থাকলে কেনইবা চাষিরা সরকারি নির্ধারিত সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করবেন।
জানা গেছে সরকারিভাবে প্রতি কেজি ২১ টাকা ৮৩ পয়সা দরে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করার ঘোষনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়মে ইতিমধ্যেই সারা রাজ্যে ২৩টি মহকুমায় পর্যায়ক্রমে ৮৯টি ধান ক্রয় কেন্দ্রে ধান ক্রয় করা শুরু হয়েছে। কিন্তু খবর নিয়ে জানা যায় সহায়ক মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার জন্য যে লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছিল তার ধারে কাছেও ধান কেনা যাচ্ছে না। ।
কৃষকদের বক্তব্য যেখানে সরকারি নির্ধারিত সহায়ক মূল্যে প্রতি কেজি ধান ২১ টাকা ৮৩ পয়সা করে সরকার কিনছে সেখানে খোলা বাজারেই প্রতি কেজি ধান ২৫ টাকা করে পাইকাররা কৃষকদের বাড়ি থেকে নিয়ে যাচ্ছে। প্রায় সব মহকুমায়ই খোলা বাজারে ধানের দাম সহায়ক মূল্যে বিক্রি হওয়া ধানের দামের থেকে অনেক বেশি রয়েছে।
পাশাপাশি সরকারিভাবে সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করতে গিয়ে নানা ধরনের ঝামেলা পোহাতে হয়। যার ফলে ঘরে বসে খোলা বাজারে বেশি দামে ধান বিক্রি করতে আগ্ৰহ দেখাচ্ছেন বেশির ভাগ কৃষক ।যদিও সরকার ধান কেনার তাদের লক্ষ্যমাত্রায় পৌচ্ছাতে জোরদার প্রচার করেছে। সবত্র লক্ষ লক্ষ টাকা খরচায় ফ্লেক্স ফেষ্টুনে লাগানো হচ্ছে।
এদিকে এখন পর্যন্ত কি পরিমান ধান সহায়ক মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করা হয়েছে তার হিসাবও পাওয়া যাচ্ছে না রাজ্যের প্রত্যন্ত মহকুমার কাঞ্চনপুরে খাদ্য দপ্তরের কাছে। এদিকে কাঞ্চনপুর দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য দপ্তরের কোন এসডিসি নেই। জানা গেছে এসডিসির দায়িত্ব চালাচ্ছেন একজন ফুড ইন্সপেক্টর। দীর্ঘদিন যাবত এভাবে চলতে থাকায় কাঞ্চনপুর খাদ্য দপ্তরে অচলাবস্থা শুরু হয়েছে।

