ত্রিপুরার ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা সহ অন্যান্য আনুসঙ্গিক বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আশ্বাস মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর

আগরতলা, ৫ মে (হি. স.) : ত্রিপুরার ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা সহ অন্যান্য আনুসঙ্গিক বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন। মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী আজ টেলিফোনে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন। এদিকে, মণিপুরের ত্রিপুরার ছাত্রছাত্রী মোট ২৫৮ জন সকলেই নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব পি কে চক্রবর্তী।


প্রসঙ্গত, মণিপুর হাই কোর্ট মেইতেই সম্প্রদায়কে তফশিলি উপজাতি (এসটি) তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য মণিপুর সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে। এরই প্রতিবাদে ‘অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন, মণিপুর’-এর উদ্যোগে বুধকাল বিকেলে মণিপুরের উপজাতি সংগঠনগুলি ‘সংহতি মিছিল’-এর আয়োজন করেছিল। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা মণিপুরের বুংমুয়ালে বন বিভাগের বিট অফিস পুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি কয়েক জায়গায় টায়ার পোড়ানোর মতো বিচ্ছিন্ন ঘটনা সংগঠিত করেছে। কেবল তা-ই নয়, বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি বাড়ি এবং গাড়িতে অগ্নিসংযোগও করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অ্যাকশনে নামে নিরাপত্তা বাহিনী। তখন তাঁদের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত হয় বিক্ষোভকারীরা। তাতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মণিপুর সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেখা মাত্র গুলির আদেশ জারি করেছে।


ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী আজ সামাজিক মাধ্যমে বার্তায় জানিয়েছেন, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন. বীরেন সিং-র সাথে টেলিফোনে সেখানকার সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ত্রিপুরার ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা সহ অন্যান্য আনুসঙ্গিক বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন।


এদিকে, আজ সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে ত্রিপুরার তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব পি কে চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ত্রিপুরার ছাত্রছাত্রী মোট ২৫৮ জন মণিপুরে নিরাপদে আছেন। তাঁর দাবি, রিমস-এ অধ্যায়ণরত ১৫০ জন, পিজি কোর্সে পাঠরত ৪০ জন, কৃষি মহাবিদ্যালয়ে ৪৮ জন এবং মণিপুর রিজিউনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি-তে পাঠরত ২০ জন ত্রিপুরার ছাত্রছাত্রী সম্পূর্ণ নিরাপদে রয়েছেন।


সাথে তিনি যোগ করেন, মণিপুরের পরিস্থিতির উপর ক্রমাগত নজর রাখা হচ্ছে। আজ মুখ্যমন্ত্রীর পৌরহিত্যে সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরের আধিকারিকদের সাথে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এখন পর্যন্ত মণিপুর থেকে ত্রিপুরার ছাত্রছাত্রীদের ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়নি। কারণ, সেখানের পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণে আসছে।